
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ছ’শোর বেশি মানুষ। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, সেতু, রাস্তা এবং অসংখ্য মানুষের সর্বস্ব। কিন্তু এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেই সামনে আসছে মানবিকতার চরম পতনের ছবি। মৃতদেহের গয়না লুটের অভিযোগের পর এবার নদীতে ভেসে আসা একটি ব্যাঙ্কের লকার থেকে ৯২ লক্ষের বেশি নেপালি টাকা লুটের অভিযোগ উঠল।
ভেসে এল ব্যাঙ্কের লকার, লুট ৯২ লক্ষ টাকা!
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার স্রোতে একটি ভারী ব্যাঙ্ক লকার ভেসে আসে। ধাদিং জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরে গলচি এলাকায় সেটি আটকে যায়।
লকার ভেসে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই লকার থেকে টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ।
পরে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, মোট ৯২,৬৮,৫০৫ নেপালি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই গলচি-৪ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া টাকা কোন ব্যাঙ্কের এবং লকারটি কীভাবে নদীতে ভেসে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৃতদেহ থেকেও গয়না লুটের অভিযোগ
এর মধ্যেই আরও ভয়াবহ একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া প্রায় ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার জলে ভেসে আসা এক মহিলার মৃতদেহ নারায়ণী নদীর তীরে আটকে রয়েছে।
দুই যুবক বাঁশের সাহায্যে দেহটিকে নদীর পাড়ের কাছে নিয়ে আসেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এরপর তাঁদের একজন মৃতদেহের চুল ধরে টেনে কান থেকে সোনার দুল খুলে নেন বলে অভিযোগ। পরে সেই গয়না অন্য এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি দেখে আশপাশের কয়েকজন মানুষ ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিওই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওর সূত্র ধরে গ্রেপ্তার দুই
ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে নেপাল পুলিশ। ঘটনায় মদন গুরুং এবং উমেশ চৌধুরী নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশের তরফেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রকাশ করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে।
একদিকে যখন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বজনদের হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ, তখন সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মৃতদেহের গয়না কিংবা ভেসে আসা অর্থ লুটের অভিযোগে একের পর এক গ্রেপ্তারি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বিপর্যয়ের সময়ে মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিকতা নিয়ে।






