Kerala News: ‘মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে’, সুন্নি ধর্মগুরুর মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক

‘মহিলাদের ঘরেই বন্দি রাখতে হবে, জনসমক্ষে তাঁদের আসার দরকার নেই’—এমন মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন সুন্নি ধর্মগুরু শেখ আবু বকর আহমদ ওরফে কান্থাপুরম এপি আবু বকর মুসলিয়ার। তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন কেরলের শ্রমমন্ত্রী বিন্দু কৃষ্ণ। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য মহিলাদের কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
কী বলেছিলেন আবু বকর?
কোচিতে আয়োজিত হুব্বুল রসুল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবু বকর বলেন, মহিলাদের ঘরেই থাকা উচিত এবং জনসমক্ষে তাঁদের আসার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, পবিত্র কোরানেও এমন নির্দেশ রয়েছে।
এরপরই তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শুধু বক্তব্যেই থামেননি ধর্মগুরু। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তরফে লিখিত নির্দেশও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সেখানে মাদ্রাসাগুলিকে ধর্মীয় সভায় অনাত্মীয় পুরুষদের মাঝে মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জনসমক্ষে মহিলাদের উপস্থিতি নিয়েও নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পালটা কেরলের শ্রমমন্ত্রীর
আবু বকরের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কেরলের শ্রমমন্ত্রী বিন্দু কৃষ্ণ। সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, মহিলাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও সমাজের সমস্ত ক্ষেত্রে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ধরনের মন্তব্য সেই অধিকারকে খর্ব করার পাশাপাশি মহিলাদের কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
মন্ত্রী আরও বলেন, কেরলের মহিলারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করেন এবং সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তাই তাঁদের জনজীবন থেকে দূরে রাখার মতো কোনও বক্তব্য মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
ঘরবন্দি করার নিদান ঘিরে বিতর্ক
ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাখ্যা এবং সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন—দুইয়ের সংঘাতেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে বিতর্ক।
একদিকে আবু বকরের বক্তব্য ও সংগঠনের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে কেরল সরকারের পক্ষ থেকে নারী স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
ফলে মহিলাদের জনজীবনে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং সাংবিধানিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কেরলে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।






