Nepal Green House: হড়পা বানের মাঝেও অটুট চারতলা সবুজবাড়ি, বাঁচল ৬ প্রাণ

নদী ছিল সুন্দরী পাহাড়ি নদী। কিন্তু হিমবাহ ভাঙা জলস্রোতে মুহূর্তের মধ্যে সেই নদীই হয়ে উঠেছিল ভয়ংকর জলদানব। চারপাশের বাড়িঘর, গাড়ি, রাস্তা—সবকিছু খড়কুটোর মতো ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল হড়পা বান। সেই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রইল চারতলা একটি সবুজ বাড়ি। বাঁচল বাড়ির ছয় বাসিন্দার প্রাণ।
নেপালের নুয়াকোট জেলার এই ‘অলৌকিক’ সবুজবাড়ির ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ত্রিশূলী নদীর প্রবল স্রোতে আশপাশের প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও অক্ষত রয়েছে বাড়িটি। প্রথমে অনেকেরই সন্দেহ হয়েছিল, ভিডিয়োটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি। কিন্তু পরে বাড়ির মালিক প্রকাশের সঙ্গে একাধিক সংবাদমাধ্যমের কথা হলে জানা যায়, ঘটনাটি বাস্তব।
মৃত্যুর মুখে ছয় সদস্যের পরিবার
হড়পা বান যখন নুয়াকোটে আছড়ে পড়ে, তখন বাড়িতে ছিলেন প্রকাশ-সহ পরিবারের ছয় সদস্য। প্রকাশ জানিয়েছিলেন, তিনি কাছেই একটি দোকানে ছিলেন। নদীর জল বাড়ার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যান।
ততক্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ। পরিবারকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার চেষ্টা করলেও জল-কাদার প্রবল স্রোত চারদিক থেকে বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। বাইরে বেরোনোর কোনও উপায় ছিল না।
প্রাণ বাঁচাতে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির চারতলায় উঠে যান। কিন্তু সেখানেও জল-কাদার স্রোত পৌঁছে গেলে শেষ পর্যন্ত বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন তাঁরা।
চারপাশে তখন শুধুই ধ্বংস। একের পর এক বাড়ি নদীর স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রকাশের সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল তাঁর ছেলেকে নিয়ে। হড়পা বান আসার সময় ছেলে স্কুলে ছিল। আদৌ সে নিরাপদে ফিরবে কি না, তা নিয়েও আতঙ্কে ছিলেন তিনি।

আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায় গোটা পরিবার। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নদীর স্রোত কিছুটা কমলে স্থানীয়রা লম্বা পাইপের সাহায্যে বাড়ির ছাদ থেকে প্রকাশ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যকে উদ্ধার করেন।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—চারপাশের সব বাড়ি যখন ধ্বংস হয়ে গেল, তখন এই সবুজবাড়িটি কীভাবে দাঁড়িয়ে রইল?
কেন ভাঙল না ‘সবুজবাড়ি’?
প্রকাশের দাবি, প্রায় ৪০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল বাড়িটি। সেই সময় বাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট ও বালির গুণমান যথেষ্ট ভালো ছিল। নদীর কাছাকাছি হওয়ায় বাড়িটির ভিতও বিশেষ ভাবে শক্তপোক্ত করে তৈরি করা হয়েছিল।
প্রকাশ জানিয়েছেন, বাড়ির ভিত মজবুত করার জন্য নিচে রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের দুই-তিনটি স্তরও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, সেই মজবুত ভিতই হয়তো ভয়ংকর জল-কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের অভিঘাত সামলাতে সাহায্য করেছে।
অবশ্য বাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন নয়। নিচের তলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মূল কাঠামো ভেঙে পড়েনি। আর সেটিই হয়ে উঠেছে প্রকাশ ও তাঁর পরিবারের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ।

‘রাখে হরি মারে কে!’
বাড়িটি কেন অটুট রইল, তার পিছনে নির্মাণশৈলী, মজবুত ভিত এবং অবস্থানের মতো একাধিক বাস্তব কারণ থাকতে পারে। কিন্তু ভয়াবহ সেই ভিডিয়ো দেখে নেটিজেনদের একাংশের কাছে এটি নিছক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হিসেব নয়।
তাঁদের চোখে, নেপালের ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই সবুজ বাড়ি যেন ‘রাখে হরি মারে কে’-র জীবন্ত উদাহরণ।
একদিকে নদীর ভয়ংকর তাণ্ডব, অন্যদিকে অক্ষত একটি বাড়ির ছাদে মৃত্যুকে হারিয়ে অপেক্ষা করছে ছয়টি প্রাণ—নেপালের এই ঘটনা তাই বিপর্যয়ের মধ্যেও বেঁচে থাকার এক অবিশ্বাস্য গল্প হয়ে উঠেছে।






