নিউ টাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্যাস, বরাদ্দ ২৫ কোটি

শুরু হয়ে গিয়েছে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার। ৩ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে বিশেষ উদযাপন। সেই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিউ টাউনে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনে এই চলচ্চিত্রকেন্দ্রের শিলান্যাস ও ভূমিপুজো অনুষ্ঠিত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মহানায়কের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
উত্তম কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলা সিনেমায় মহানায়কের অবদানের কথা তুলে ধরেন। নিজের চার দশকের অভিনয়জীবনের পিছনেও উত্তম কুমারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসেনজিৎ বলেন, “আমি কাজ করছি ৪০ বছর। আমার বাবাও এই মাটিতেই কাজ করেছেন। কিন্তু ভিতটা পুঁতে দিয়ে গিয়েছেন উত্তম কুমার। বাংলা সিনেমা উনি ওই জায়গায় এগিয়ে না নিয়ে গেলে, আমরা কাজ করতে পারতাম না।”
এদিনের অনুষ্ঠানে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তীকে এই প্রকল্পের কালচারাল অ্যাডভাইজার হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই চলচ্চিত্রকেন্দ্রটি মোট তিনটি অংশে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম অংশে সিনেমা হল, প্রিভিউ থিয়েটার ও ফুড কোর্ট
প্রথম অংশে থাকবে দুটি সিনেমা হল। প্রতিটি হলে থাকবে ৭৫০টি করে আসন। অর্থাৎ, মোট ১৫০০ দর্শক একসঙ্গে সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি থাকবে প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট এবং পার্কিংয়ের সুবিধা।
দ্বিতীয় অংশে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম
ফিল্ম সেন্টারের দ্বিতীয় অংশে তৈরি হবে ১০০০ আসনের একটি অডিটোরিয়াম। পাশাপাশি থাকবে একটি ওপেন এয়ার থিয়েটার। ফলে শুধু সিনেমা প্রদর্শন নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, বিশেষ প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক আয়োজনও করা যাবে।
তৃতীয় অংশে অ্যানিমেশন, VFX ও পোস্ট-প্রোডাকশন
তৃতীয় অংশটি মূলত ভবিষ্যতের সিনেমা ও মিডিয়া-এন্টারটেইনমেন্ট শিল্পের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হবে। এখানে থাকবে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা VFX, গেমিং, কমিক্স, এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি এবং সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি ও স্টুডিয়ো।
অর্থাৎ, ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ শুধুমাত্র সিনেমা দেখার জায়গা হিসেবে তৈরি করা হবে না। চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং মিডিয়া-এন্টারটেইনমেন্ট শিল্পের পরিকাঠামোগত সহায়ক কেন্দ্র হিসেবেও এটিকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্ষার মরসুম শেষ হলেই ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির কাজ শুরু হবে। অর্থাৎ শিলান্যাস ও ভূমিপুজোর পর দ্রুতই প্রকল্পের নির্মাণপর্বে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে নিউ টাউনে এই চলচ্চিত্রকেন্দ্রের উদ্যোগকে বাংলা সিনেমার ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ—দুইয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে উত্তম কুমারের স্মৃতিকে সম্মান জানানো, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।






