স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ গ্রেপ্তার, ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার আগেই বুলন্দশহর থেকে পাকড়াও

৭২ ঘণ্টার আগেই গ্রেপ্তার স্বতন্ত্র! দিল্লি থেকে বাইকে পালিয়ে বুলন্দশহরে পুলিশের জালে
৭২ ঘণ্টার ‘সময়সীমা’ দিয়েছিল পুলিশ। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা স্বঘোষিত গো-রক্ষক স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ। জানা গিয়েছে, বুলন্দশহর থেকে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁকে পাকড়াও করেছে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি।
অভিযোগ, জুলাই মাসে নিট বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভকারী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারের উপর হামলা চালিয়েছিলেন স্বতন্ত্র। সেই সময় অভিযোগ উঠলেও তাঁর বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি। পরে একটি পডকাস্টে স্বতন্ত্র নিজেই ওই হামলার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
পডকাস্টে স্বতন্ত্র দাবি করেন, নিশু আজাদের বাবাকে তিনিই মারধর করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এরপরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার দাবিও করেন স্বতন্ত্র। তাঁর বক্তব্য ছিল, “কপিল মিশ্র আমার বড় ভাই, চিরাগ পাসওয়ান আমার বড় ভাই। নরেন্দ্র মোদিও আমার বড় ভাই।”
স্বতন্ত্রের এই মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতারা দ্রুত তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। পরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বতন্ত্রের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
শুক্রবার সকালে এই দাবিতে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেখানে সিজেপির নেতাদের পাশাপাশি আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসের মতো নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। দুই সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ ও পাপ্পু যাদবও থানায় গিয়ে স্বতন্ত্রকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এর মধ্যেই স্বতন্ত্রকে ঘিরে আরও একটি ভিডিও সামনে আসে বলে অভিযোগ। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে ধরা হলে ফের মারধর করবেন। হাতের বালা তুলে ধরে সেটির ‘ক্ষমতা’ দেখানোর কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে। নিশু আজাদের বাবাকে মারধরের প্রসঙ্গেও ফের আস্ফালন করেন বলে অভিযোগ।
ক্রমশ বিতর্ক তীব্র হতে থাকায় স্বতন্ত্র গা-ঢাকা দেন। অভিযোগ, বাইকে চড়ে দিল্লি থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর দিল্লি পুলিশ জানায়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। যে পডকাস্টে তিনি হামলার কথা স্বীকার করেছিলেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
শেষ পর্যন্ত সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বুলন্দশহর থেকে স্বতন্ত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে খুনের চেষ্টা, পকসো এবং তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনের ধারাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্রের গ্রেপ্তারের পর তাঁর সঙ্গে দূরত্ব স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানও। চিরাগের দাবি, স্বতন্ত্রের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই এবং তিনি তাঁকে চেনেন না।
চিরাগ পাসওয়ান বলেন, “ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। আমি চিনি না। ওর বিরুদ্ধে আমার নামের অপব্যবহার করার জন্য মামলা হওয়া উচিত।”
এরপরই চিরাগ পাসওয়ানের দলও স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, পডকাস্টে করা মন্তব্য, পুরনো হামলার অভিযোগ এবং একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন স্বঘোষিত গো-রক্ষক স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ।






