নেপালে হড়পা বানের পর ৫ বছরের শিশুসহ আরও ৩ ভারতীয় উদ্ধার, নিখোঁজ ২৭৫

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই আশার আলো, নেপালে ৫ বছরের শিশুসহ আরও ৩ ভারতীয় উদ্ধার
ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপালে ধীরে ধীরে ফিরছে আশার আলো। ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও মাটির নীচ থেকেও একের পর এক জীবিত মানুষের সন্ধান মিলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নেপালের ত্রিশূলী বাজার এলাকা থেকে আরও তিন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশুও।
শুক্রবার রাতে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডলে এই সুখবর জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নেপাল থেকে মোট ১৬৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী বাজার থেকে উদ্ধার হওয়া তিন ভারতীয়ের নাম অভিজিৎ সুরেশ পওয়ার, দীপিকা অভিজিৎ পওয়ার এবং সমর্থ অভিজিৎ পওয়ার। সমর্থের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তিনজন একই পরিবারের সদস্য।
গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে প্রথমেই ত্রিশূলী বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তোড়ে ভেসে যায়। সেই বিপর্যয়ের পরও কোনওভাবে নিজেদের প্রাণ বাঁচিয়ে এতদিন টিকে ছিলেন ওই তিনজন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় তাঁদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
ভারতীয়দের উদ্ধারের বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া মাত্রই তা পরিবারের সদস্যদের জানানো হচ্ছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধানের কাজও নিয়মিতভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
শুধু উদ্ধারকাজ নয়, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালের জন্য ত্রাণসাহায্যও অব্যাহত রেখেছে ভারত। দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ ভারতীয়দের খোঁজেও কাজ করছে নয়াদিল্লি।
তবে নেপালের বিপর্যয়ের সামগ্রিক চিত্র এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার বিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে ওলি বলেন, হড়পা বানের প্রবল স্রোতে বহু মানুষ কোথায় ভেসে গিয়েছেন, তার কোনও নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন। তাঁর আশঙ্কা, নিখোঁজদের অনেকেই হয়তো আর বেঁচে নেই।
ওলির বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক মৃতদেহ চিতওয়ান এলাকায় পাওয়া গিয়েছে। এমনকি ভারত সীমান্তেও বেশ কিছু মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, হড়পা বানের স্রোতে বহু মানুষ অনেক দূরে ভেসে গিয়ে থাকতে পারেন।
এখনও পর্যন্ত নেপালে প্রায় ১,৩০০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি আরও বড় বিপদের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কেপি শর্মা ওলি। তাঁর দাবি, হিমবাহের খুব ছোট একটি অংশ ভেঙে এই বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু বড় কোনও বরফের চাঙড় যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। ফলে এখন থেকেই সতর্ক না হলে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
একদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি চলছে, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনায় বাড়ছে আশার আলো। ত্রিশূলী বাজার থেকে পাঁচ বছরের শিশুসহ আরও তিন ভারতীয়ের উদ্ধার সেই আশাকেই আরও উজ্জ্বল করেছে।






