Durgapur Food Safety Raid: মিষ্টির কারখানায় আরশোলা, ফ্রিজে বাসি খোয়া-পনির

খাবারের নামে পাতে পড়ছে ‘অখাদ্য’! শহর থেকে জেলা—হোটেল, রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সোমবার দুর্গাপুরে এমনই অভিযানে গিয়ে আধিকারিকদের সামনে উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবি। কোথাও কিলবিল করছে আরশোলা, কোথাও আবার খাবারে ধরেছে ছত্রাক। উদ্ধার হয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ মসলা, বাসি খাবার, বিভিন্ন রং ও রাসায়নিক। এমনকি একটি মিষ্টির দোকানের ফ্রিজ থেকে মিলেছে আট বস্তা বাসি খোয়া ও পনির।
দুর্গাপুরের গোপাল মাঠ এলাকায় একাধিক মিষ্টির দোকান, গোডাউন এবং খাবারের দোকানে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। একটি মিষ্টি কারখানায় ঢুকতেই আধিকারিকদের নজরে আসে আরশোলার উপদ্রব। অভিযোগ, সেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই তৈরি হচ্ছিল নানা ধরনের মিষ্টি।
কারখানার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল বাসি খাবার। কোথাও আবার পচা মিষ্টির রস জমে ছিল। মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের রং ও রাসায়নিক। সেগুলির মেয়াদ এবং খাবার তৈরিতে ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
অভিযানে উদ্ধার হয় মেয়াদ উত্তীর্ণ মসলা, বাসি খাবার, ছত্রাক ধরা মোমো এবং বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও রং। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার বেশ কিছু দোকানের খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ উঠছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই একাধিক দোকান ও খাদ্য মজুতের জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় খাবার তৈরির পরিবেশ, খাদ্যসামগ্রীর গুণমান, মেয়াদ এবং সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। উদ্ধার হওয়া পচা, বাসি ও ব্যবহার অনুপযোগী খাদ্যসামগ্রী ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্কও করা হয়।
তবে অভিযানের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে আসে দুর্গাপুরের মেন গেট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানে। ফ্রিজ খুলতেই উদ্ধার হয় আট বস্তা বাসি খোয়া এবং বাসি পনির। অভিযোগ, দিনের পর দিন ওই খাদ্যসামগ্রী ফ্রিজে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, উদ্ধার হওয়া খোয়া ও পনিরের অবস্থা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি ফ্রিজে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযানের পর ওই দোকানের মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
দুর্গাপুরে একই অভিযানে একাধিক দোকানে এমন ছবি সামনে আসায় খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের নজরদারি আরও বাড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।






