Satya Niketan Building Collapse: দিল্লির সব PG-র নিরাপত্তা অডিটের দাবি CJP-র

দিল্লির সত্য নিকেতনে PG হস্টেলের ছয়তলা বাড়ি ভেঙে পড়ে ছাত্রদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। রাজধানীর সমস্ত পেয়িং গেস্ট (PG) হস্টেলের নিরাপত্তা পরিকাঠামো অবিলম্বে খতিয়ে দেখে অডিট করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সত্য নিকেতনের ঘটনায় ঠিক কোথায় গাফিলতি হয়েছে, তার দায় নির্দিষ্ট করারও দাবি উঠেছে।
CJP-র অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলগুলির বড় বড় পার্টি অফিস তৈরি হলেও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে একই ধরনের গুরুত্ব দেখা যায় না। শুধু স্কুল-কলেজের জরাজীর্ণ ভবন নয়, এবার বিভিন্ন শহরে থাকা PG এবং হস্টেলগুলির নিরাপত্তা পরিকাঠামোও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার সত্য নিকেতনের ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু এবং বেশ কয়েক জনের আটকে পড়ার খবর সামনে আসার পরই CJP-র তরফে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের বক্তব্য, দিল্লির মতো শহরে পড়াশোনা করতে আসা ছাত্রছাত্রীদের থাকার জায়গার নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা যায় না।
CJP-র দাবি, একের পর এক ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত ভবনগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় নজরদারি করা হচ্ছে না। ভবনগুলির নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতি থাকছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের।
CJP-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সিস্টেমের গাফিলতির মূল্য আর কত দিন ছাত্রছাত্রীদের চোকাতে হবে?’ তাঁর বক্তব্য, ‘নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ হস্টেল এবং ন্যূনতম মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার পরিবেশ— এগুলি কোনও বাড়তি দাবি নয়, পড়ুয়াদের মৌলিক প্রয়োজন।’
সত্য নিকেতনের দুর্ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও নিশানা করেছেন দীপকে। তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিন প্রধানমন্ত্রী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও তার আশপাশে পড়ুয়াদের থাকার পরিকাঠামোর বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টেও দীপকে প্রশ্ন তোলেন, ‘কত দিন সিস্টেমের ব্যর্থতার মূল্য ছাত্রদের দিতে হবে?’ তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। জাতীয় রাজধানীতে পড়াশোনা করতে আসা ছাত্রছাত্রীরাও যদি নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা না পান, তাহলে প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর রবিবারই CJP-র একটি দল সত্য নিকেতনে পৌঁছয়। সংগঠনের উত্তর জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপক বলিয়ান এবং জাতীয় যুগ্মসচিব বালকৃষ্ণ শুক্লর নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা এবং উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কাজে যোগ দেন সংগঠনের সদস্যরা।
CJP-র তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকরা ঘটনাস্থলে থাকার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি আটকে পড়া ছাত্রদের পরিবারের পাশে থাকা এবং উদ্ধার পরিস্থিতির উপর নজর রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সত্য নিকেতনের দুর্ঘটনার পর এলাকার অন্যান্য PG নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ওই এলাকায় একাধিক আবাসিক বাড়ি পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের থাকার জন্য PG হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভবনগুলি যে উদ্দেশ্যে প্রথমে নির্মিত হয়েছিল, তার তুলনায় পরবর্তী সময়ে সেখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
একই সঙ্গে ওই ভবনগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, PG হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছে কি না— সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। CJP-র মতে, সত্য নিকেতনের ঘটনা শুধু একটি ভবন ধসের ঘটনা নয়, বরং ছাত্রদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর প্রশাসনিক ব্যবস্থারও প্রশ্ন তুলছে।






