Satya Niketan Building Collapse: ৭ মৃত্যু, রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার বাড়ির মালিক

রবিবার দুপুরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল দিল্লির সত্য নিকেতনের একটি ছ’তলা বাড়ি। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রাজস্থান থেকে বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার সকালেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট’ নোটিস জারি করা হয়েছিল।
‘লুক আউট’ নোটিস জারির পর থেকেই বাড়ির মালিকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল গঠন করে তাঁর সম্ভাব্য গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। তিন-চারটি দল বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালায়।
পুলিশের একটি দল সেক্টর ২৩-এ হরিরাম গুপ্তের মালিকানাধীন ‘হরিরাম পেইন্টস অ্যান্ড হার্ডওয়্যার’ দোকানেও অভিযান চালায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, গত দু’দিন ধরে দোকানটি তালাবন্ধ। এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন হরিরাম। তাঁর পরিবারের সেক্টর ২৩ এবং পালাম বিহারে একাধিক বাড়ি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের বিওয়াড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বেসমেন্টে নির্মাণকাজই কি ধসের কারণ?
প্রাথমিক তদন্তে বহুতলটি ভেঙে পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বেসমেন্টে নির্মাণকাজ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জল জমার বিষয়টি উঠে এসেছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতন এলাকায় একাধিক বাড়ি মেসবাড়ি বা পিজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ বাড়ির নিচেই রয়েছে বেসমেন্ট। শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টির জেরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটির বেসমেন্টেও জল জমেছিল বলে জানা গিয়েছে।
এর মধ্যেই সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জল জমার পাশাপাশি বেসমেন্টে নির্মাণকাজের জেরে ভবনটির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে থাকতে পারে। তার ফলেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা বহুতল।
এমনকি বাড়িটি নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার দাবি অনুযায়ী, রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ের সর্বোচ্চ অনুমোদিত উচ্চতা ১৭.৫ মিটার। কিন্তু দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়িটির উচ্চতা তার চেয়ে বেশি ছিল বলে জানা গিয়েছে।
ছুটির দিন হওয়ায় বাড়িতে ছিলেন বহু পড়ুয়া
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে মোতিবাগ এলাকার এই বাড়িটি ভারী বৃষ্টির মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পরে উদ্ধারকাজে আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই বাড়িতে বহু পড়ুয়া পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে ছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন।
পাশের একটি বাড়ির এক পেইং গেস্ট পড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে বেশ কয়েকজনের আর্তনাদের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
শোকপ্রকাশ মোদি-রাহুল-খাড়গের
সত্য নিকেতনের মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। দুর্ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন অমূল্য। যে কোনও পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখন বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নির্মাণকাজ, ভবনের অনুমোদন এবং নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্ত এগোলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।






