Malda Ganga Erosion: গঙ্গায় তলিয়ে গেল ১৫০ বছরের পুরনো শিবমন্দির

ফুঁসছে গঙ্গা। নদীর ভয়াল রূপ দেখে আতঙ্কিত স্থানীয়রা। তার মধ্যেই গঙ্গার গ্রাসে চলে গেল মালদহের ১৫০ বছরের প্রাচীন এক শিবমন্দির। রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলার মুলিরাম টোলার ওই পুরনো মন্দিরটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় মন্দির তলিয়ে যাওয়ার মুহূর্তের ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ এই ঘটনাকে অশনি সংকেত হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের আশঙ্কা, গঙ্গার ভাঙন এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দিনে আরও বহু এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
ক্রমেই বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর
সোমবার সকাল থেকেই গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে মালদহের মানিকচকের ভূতনিতে নদীভাঙনও তীব্র আকার নিয়েছে।
ভাঙনের জেরে সেতু সংলগ্ন সংযোগকারী বাঁধের রাস্তা জলের তলায় চলে গিয়েছে। এর ফলে মানিকচক-সহ মালদহের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভূতনি দ্বীপ। সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে তৎপরতা শুরু হয়েছে। জেলাশাসক এবং সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুর ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করার চেষ্টা করছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা।
বিকল্প রাস্তা তৈরির চেষ্টা
ভূতনি দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ ফেরানোর জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই বালি, কাঠের গুঁড়ি, লোহার খুঁটি এবং ভাঙা ইট ব্যবহার করে রাস্তা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ নতুন রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেই রাস্তা তৈরি হলে ভূতনি দ্বীপে যাতায়াত ফের সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের আশা।
তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন রাস্তা তৈরিতে অন্তত ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছেন।
নদীগর্ভে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রাথমিক স্কুল
গঙ্গাভাঙনের আতঙ্ক শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ নয়। মানিকচকের ভূতনি দিয়ারার পশ্চিম রতনপুরের একমাত্র প্রাথমিক স্কুলটিও এখন নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই স্কুলের ভবন গঙ্গার ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙন যেভাবে বাড়ছে, তাতে খুব শীঘ্রই স্কুলটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করেন বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তর এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
একদিকে ১৫০ বছরের প্রাচীন শিবমন্দির নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে ভূতনি দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং একটি প্রাথমিক স্কুল নদীর গ্রাসে চলে যাওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে মালদহে গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।






