ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও, ‘সম্মানরক্ষায়’ ২২ বছরের তরুণীকে খুন | Gujarat

ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও বানিয়েছিলেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পরিবারের ‘সম্মানহানি’ হয়েছে বলে অভিযোগ। আর সেই ‘অপরাধেই’ ২২ বছরের তরুণী সোফিয়া ফারুককে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে। পরপর হাতুড়ির আঘাতে মাথা থেঁতলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি গুজরাটের সারখেজ এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন সোফিয়া। সম্প্রতি সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসার পর থেকেই তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, পরিবারের তরফে তাঁকে ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা ও কথা বলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল।
এরপর গত ১২ আগস্ট রাতে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, প্রথমে পরিবারের সদস্যদের হাতে মারধরের শিকার হন সোফিয়া। পরে তাঁর দাদা তাঁকে বাইকে করে সারখেজের গেলজিপুরার কাছে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁর বাবা এবং দাদার উপস্থিতিতে মাথায় পরপর হাতুড়ির আঘাত করা হয় বলে পুলিশের দাবি। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
তবে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে পথ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়, ১২ আগস্ট রাতে দাদার বাইকে করে যাচ্ছিলেন সোফিয়া। সেই সময় পিছন থেকে একটি গাড়ি এসে বাইকে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার জেরে বাইক থেকে পড়ে গিয়ে মাথার পিছনে গুরুতর চোট পান তিনি। পরদিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
কিন্তু পুলিশের তদন্তে সেই বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন সোফিয়াকে বাইকে করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সোফিয়ার বাবা ও দাদা। দু’জনেই ফেব্রিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। হত্যার সময় ঘটনাস্থলে দু’জনই উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বাবা এই ঘটনায় সাহায্য করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
জানা গিয়েছে, সোফিয়া একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে পরিবার আগে থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর সেই আপত্তি আরও তীব্র হয়।
শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় সোফিয়ার বাবা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে তথাকথিত ‘সম্মানরক্ষার’ নামে পরিবারের সদস্যদের হাতে তরুণীদের উপর হিংসা ও হত্যার ঘটনা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশের মতো বিষয় কীভাবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়ে উঠল, তা নিয়েও এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।






