জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পূর্ণদাস বাউল | West Bengal

জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট কাটাতে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন বর্ষীয়ান বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল। মঙ্গলবার সল্টলেকে ‘জনতার দরবারে’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হাজির হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে চান শিল্পী ও তাঁর পরিবার।
পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাসের অভিযোগ, বাম আমলেই তাঁদের পৈতৃক জমি দখল করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
দিব্যেন্দুর অভিযোগ, তাঁদের পৈতৃক ভিটেতে একটি আশ্রম ছিল। কোপাইয়ের অশান্তির পর ২০০৮ সালে মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে আশ্রমের প্লট বদলে দেওয়া হয় এবং সেটি সিল করে দেওয়া হয়। এরপর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি এবং নবান্নে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি দিব্যেন্দুর।
কেন এতদিনেও তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। দিব্যেন্দুর অভিযোগ, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দেশে চলতে রাজি ছিলেন না বলেই তাঁদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
শুধু আশ্রমের জমি নয়, ইলামবাজারে তাঁদের আরও একটি বড় জমি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। দিব্যেন্দুর দাবি, তাঁদের প্রায় চার বিঘা চাষের জমি দখল করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের নিশানায় রয়েছেন তৃণমূল নেতা চন্দ্রনাথ সিনহা এবং অনুব্রত মণ্ডল। তাঁদের বিরুদ্ধে জমি দখল করে সেখানে রাতারাতি নির্মাণ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
জমি ফিরে পাওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ থেকে শুরু করে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিল দাস পরিবার। কিন্তু এতদিনেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তাঁদের দাবি। ফলে এবার প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের আশায় কলকাতায় এসেছেন পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অবশ্য আশাবাদী বাউল শিল্পী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়ায় খুশি পূর্ণদাস বাউল। তাঁর আশা, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সবকিছু জানানোর পর দীর্ঘদিনের জমি জটের কোনও সমাধান বের হবে।
জমি ফিরে পেলে কী করা হবে, সেই পরিকল্পনাও জানিয়েছেন দিব্যেন্দু দাস। তাঁর দাবি, জমি ফিরে পাওয়া গেলে পূর্ণদাস বাউলের জীবনকালে অর্জিত পুরস্কার, সম্মান এবং শিল্পীজীবনের নানা স্মৃতি সংরক্ষণ করে একটি গ্যালারি তৈরি করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ এসে বাউল শিল্পী সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
এখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।






