Barishal Journalist Death: ‘সমকাল’ অফিসে সাংবাদিক পুলক চট্টোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

হিন্দু সাংবাদিকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বাংলাদেশের বরিশালে। জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক ‘সমকাল’-এর অফিস থেকে উদ্ধার হল সাংবাদিক পুলক চট্টোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পত্রিকার বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বে ছিলেন। অবসর নেওয়ার পরও নিয়মিত ওই অফিসে যাতায়াত করতেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই অফিস থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ।
পুলক চট্টোপাধ্যায় স্ত্রী এবং এক কন্যাকে রেখে গিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সত্যিই তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের প্যারারা রোডের ‘সমকাল’-এর অফিস ভবনে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম পুলকের নিথর দেহ দেখতে পান পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
প্রশ্ন উঠছে, অবসর নেওয়ার পরও কেন নিয়মিত পত্রিকা দপ্তরে আসতেন পুলক? জানা গিয়েছে, অবসর নেওয়ার পরেও অফিসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। নিয়মিত সেখানে এসে সংবাদপত্র পড়তেন এবং অন্য সাংবাদিকদের কাজেও সহযোগিতা করতেন। সেই কারণেই অফিসের একটি চাবি তাঁর কাছেও থাকত বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার দিন সেই চাবি দিয়েই অফিসে প্রবেশ করেছিলেন পুলক। পরে ফাঁকা অফিসের ভিতরেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঠিক কী কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে মতান্তর তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দু’টি নোটও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি নোটে স্ত্রী ও সন্তানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন পুলক। পাশাপাশি সুমন নামের এক সাংবাদিকের কাছেও ক্ষমা চাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নোটগুলির বক্তব্য এবং মৃত্যুর আগে পুলকের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে শুধুমাত্র নোট উদ্ধার হয়েছে বলেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করে দিতে চাইছে না তদন্তকারীরা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বরিশালের সাংবাদিক মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ছিল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। আত্মহত্যার প্রাথমিক অনুমান কতটা সত্যি এবং পাওনা টাকা সংক্রান্ত কোনও বিরোধ এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।






