মহালয়ায় ইডেনে মায়ের চোখ আঁকবেন মোদি, রনজি ম্যাচ সরতে পারে কল্যাণীতে

ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যান ইডেন গার্ডেন্স এবার সাক্ষী হতে চলেছে মহামায়ার আবাহনের। মহালয়ার সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেনেই দুর্গাপুজোর সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গিয়েছে, তাঁর হাতেই হবে মায়ের চক্ষুদান। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ইডেনে প্রবেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মহালয়ার অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজসাজ রব কলকাতায়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে রেড রোড। পুজোর শোভাযাত্রায় অংশ নেবে ২৩টি জেলা। প্রতিটি জেলা তুলে ধরবে বাংলার ২৩ ধরনের নৃত্যকলা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
১০ অক্টোবর মহালয়া। ওই দিনই রেড রোডে হবে বিশেষ রোড শো। এরপর ইডেন গার্ডেন্সে হবে মেগা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জানা গিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব চলে যাবে এসপিজির হাতে। ফলে ওই সময় স্টেডিয়ামে অন্য কোনও বড় আয়োজন বা ক্রিকেট ম্যাচ করা কার্যত কঠিন।
এর মধ্যেই ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে বাংলার রনজি অভিযান। প্রথম ম্যাচ দিল্লির বিরুদ্ধে। ফলে মহালয়ার অনুষ্ঠানের পরপরই ইডেনে রনজি ম্যাচ আয়োজন করা নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা। পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচটি ইডেন থেকে সরিয়ে কল্যাণীর মাঠে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে খবর।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসবেন, সেটা তো গর্বের ব্যাপার।”
ইডেনে ম্যাচ সরানো নিয়ে সৌরভের বক্তব্য, রাজ্যে একাধিক ক্রিকেট মাঠ রয়েছে। কল্যাণীতেও নিয়মিত ম্যাচ হয়। তাই প্রয়োজনে একটি রনজি ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া নিয়ে বড় কোনও সমস্যা হবে না।
সৌরভ বলেন, “আমাদের হাতে অনেক মাঠ আছে। কল্যাণীতে তো খেলা হয়। একটা ম্যাচ সরানো যেতে পারে। ফলে সমস্যা হবে না।”
এর আগে কল্যাণীর মাঠে বাংলার একাধিক রনজি ম্যাচ হয়েছে। এমনকী রনজি ট্রফির সেমিফাইনালও সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল। ফলে ইডেন থেকে ম্যাচ সরলে কল্যাণীই সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।
অন্যদিকে মহালয়ার অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তুলতে একাধিক চমক থাকছে। রাজ্য সরকারের তরফে ইডেনে আয়োজন করা হচ্ছে বিশাল সাংস্কৃতিক উৎসব। এক হাজার মহিলার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে স্টেডিয়াম। একইসঙ্গে বাজবে প্রায় ১০ হাজার ঢাক।
এই বিরাট আয়োজন জায়গা করে নিতে পারে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও—এমনটাই মনে করা হচ্ছে। যদিও রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায়।
স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় পুজোর গান গাইবেন জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে নাগাদ ইডেনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা।
অর্থাৎ মহালয়ার দিন থেকেই কার্যত উৎসবের মেজাজে চলে যাবে কলকাতা। একদিকে রেড রোডের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, অন্যদিকে ইডেনের মেগা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে মায়ের চক্ষুদান—সব মিলিয়ে এবারের মহালয়া হতে চলেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আর এর জেরে ইডেনের বাইশ গজ থেকে সাময়িকভাবে সরে যেতে পারে বাংলার রনজি অভিযান। ক্রিকেট ও সংস্কৃতির এই অনন্য মেলবন্ধনে শেষ পর্যন্ত বাংলার ম্যাচ কোথায় হয়, এখন সেদিকেই নজর।






