ছবি তোলার বাহানায় ১ বছরের শিশুকন্যাকে যমুনায় ছুড়ে ফেলল বাবা! স্ত্রীকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

তিনদিন পর যে শিশুকন্যার প্রথম জন্মদিন পালন করার কথা ছিল, সেই একরত্তি মেয়েটির জীবনে নেমে এল চরম ট্র্যাজেডি। বাইকে করে মেয়ের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে যাওয়ার পথে পারিবারিক বিবাদের জেরে ১ বছরের কন্যাপত্রকে যমুনা নদীতে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আগ্রার আকবরা সেতুর ওপরে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত পথচারীরা। অভিযুক্তকে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের খবর, সোমবার আগ্রার কাছে বদমাঘি গ্রামের বাসিন্দা রিঙ্কু তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী এবং ১ বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে বাইকে করে বাজারে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল তিনদিন পর মেয়ের প্রথম জন্মদিনের জন্য নতুন পোশাক কেনাকাটা করা।
আগ্রার আকবরা সেতুর ওপর পৌঁছাতেই দম্পতির মধ্যে প্রচণ্ড বচসা শুরু হয়। আচমকাই বাইক থামিয়ে রিঙ্কু জানান, তিনি মেয়ের সঙ্গে একটি ছবি তুলতে চান। মোবাইল বের করে একটি সেলফি তোলার পরপরই কোল থেকে একরত্তি মেয়েটিকে নিয়ে সোজা নিচে যমুনার প্রবল স্রোতে ছুড়ে ফেলে দেন তিনি!
[ঘটনামুক্তির ক্রমপর্যায়]
১. জামাকাপড় কিনতে বাইকে বের হওয়া ও আকবরা সেতুতে বচসা।
২. ছবি তোলার নামে বাইক থামানো ও সেলফি তোলা।
৩. শিশুকন্যাকে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া।
৪. সন্তানকে বাঁচাতে যাওয়া স্ত্রীকে নদীতে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা।
৫. পথচারীদের হস্তক্ষেপ, গণধোলাই ও পুলিশে হস্তান্তর।
স্ত্রীকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা ও জনতার হাতেনাতে ধরা
মেয়েকে নদীতে ফেলে দিতে দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন লক্ষ্মী এবং সেতুর রেলিংয়ের দিকে ছুটে যান। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই লক্ষ্মীকেও টেনে হিঁচড়ে সেতুর ওপর থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন রিঙ্কু।
সেতুতে যাতায়াতকারী পথচারীরা এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যান। তাঁরা লক্ষ্মীকে উদ্ধার করেন এবং চড়-থাপ্পড় ও গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখেন রিঙ্কুকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত রিঙ্কুকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়।
পণের নির্যাতন ও কন্যাপত্র হওয়ায় অসন্তোষ
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা লক্ষ্মী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৪ জুন তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
- বাড়ি থেকে বিতাড়ন: অত্যাচারের জেরে রাজস্থানের ভরতপুরের ডিগ এলাকার জাতোলি কাদমি গ্রামে নিজের বাপের বাড়িতে ৬ মাস ছিলেন লক্ষ্মী।
- কন্যাপত্র হওয়ায় অসন্তোষ: লক্ষ্মী জানান, পরে স্বামী তাঁকে ফিরিয়ে আনলেও মেয়ে হওয়ায় তিনি বিন্দুমাত্র খুশি ছিলেন না। প্রায় প্রতিদিন এই নিয়ে সংসারে অশান্তি ও ঝগড়া লেগে থাকত।
ঘটনার বর্তমান পরিস্থিতি
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | আকবরা সেতু, আগ্রা (যমুনা নদী) |
| অভিযুক্ত | রিঙ্কু (বাসিন্দা: বদমাঘি গ্রাম, আগ্রা) |
| ভুক্তভোগী | ১ বছরের শিশুকন্যা ও মা লক্ষ্মী |
| আইনি পদক্ষেপ | অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে, তল্লাশি জারি |
বর্তমানে ডুবুরি এবং উদ্ধারকারী দলের মাধ্যমে যমুনা নদীতে ওই শিশুকন্যাটির খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুকন্যাটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পণের দাবি এবং কন্যাপত্র হওয়ার প্রতি চরম বিদ্বেষ থেকে নিজের ১ বছরের সন্তানকে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা সমাজ ও মানবিকতাকে স্তম্ভিত করেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং শিশুটির উদ্ধারে সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।






