‘বিচারপতি কে আমাদের ধর্ম নিয়ে বলার?’ এলাহাবাদ হাই কোর্টের হিজাব রায়ের জবাবে বিস্ফোরক আসাদউদ্দিন ওয়েইসি

‘বিচারপতি কে বলার?’— তোপ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির
স্কুলের পোশাক বিধির সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে দায়ের করা এক স্কুলপড়ুয়ার আবেদন সম্প্রতি খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও ড্রেস কোডের একটি গুরুত্ব রয়েছে এবং হিজাব পরা ইসলাম ধর্মে কোনো বাধ্যতামূলক বা অপরিহার্য প্রথা নয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান ও সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি মন্তব্য করেন, “এটা আমাদের ধর্ম। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা আমরাই নেব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিচারপতি কে? এটি আমাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ।”
মামলার উৎস ও আদালতের যুক্তি
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে স্কুলে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি ছিল, একাদশ শ্রেণিতে উঠে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয় এক ছাত্রী।
| পক্ষ | বক্তব্য ও আইনি অবস্থান |
| আবেদনকারী ছাত্রী | ধর্মপালনের মৌলিক অধিকারের আওতায় হিজাব পরে ক্লাসে আসার অনুমতি চাওয়া হয়। |
| এলাহাবাদ হাই কোর্ট | ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের ড্রেস কোড বদলানো যায় না। হিজাব বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা বলে প্রমাণিত নয়। |
| আসাদউদ্দিন ওয়েইসি | রায়টি অনুচ্ছেদ ১৯ ও ২৫-এর পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন শবরীমালা বিষয়টির কথা মাথায় রেখে আদালতের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল। |
[একাদশ শ্রেণিতে হিজাবে আপত্তি] ➔ [পড়ুয়ার হাইকোর্টে আবেদন] ➔ [আদালতের আবেদন খারিজ ও ড্রেস কোডের প্রাধান্য] ➔ [ওয়েইসির সংবিধান লঙ্ঘন ও এক্তিয়ার সংক্রান্ত তোপ]
নারীশিক্ষা ও সমতার প্রশ্ন
ওয়েইসির বক্তব্য, সমতার অর্থ কখনোই এই নয় যে সবার ওপর জোর করে একই নিয়ম চাপিয়ে দিতে হবে। তিনি আরও যুক্তিতে জানান, “মেয়েরা হিজাব মাথায় পরে, মনে নয়।”
উত্তরপ্রদেশে মুসলিম নারীদের শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার এমনিতেই কম, আদালতের এই কঠোর অবস্থান তাঁদের পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই সাংসদ। অন্যদিকে, আদালত তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট পোশাক বিধি রক্ষা করার আইনগত অধিকার রয়েছে।






