72nd National Film Awards: মৃণাল সেনের জন্মশতবার্ষিকীতে সেরা সম্মান! ওটিটি-র ‘চালচিত্র এখন’ ছবির মাথায় উঠল জাতীয় পুরস্কারের মুকুট

source : Ei Samay
২০২৪ সালে মৃণাল সেনের জন্মশতবার্ষিকীতে চলচ্চিত্র উৎসবের আঙিনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল স্ক্রিন— সর্বত্র ঝড় তুলেছিল অঞ্জন দত্তর ট্রাইবুট ফিল্ম ‘চালচিত্র এখন’। প্রেক্ষাগৃহের গণ্ডি পেরিয়ে যে ছবি শুধুমাত্র ওটিটি-র দর্শকদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিল, আজ তা দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মানে ভূষিত হলো। ঘোষিত হলো ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা, যেখানে সেরার সেরা বাংলা ছবির শিরোপা পেল এই স্বাধীন চলচ্চিত্রটি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর ‘এই সময় অনলাইন’-এর কাছে নিজের মনের আবেগ উগরে দিলেন অঞ্জন দত্ত।
. “নিজেদের টাকা দিয়ে তৈরি ছবি”, আবেগঘন অঞ্জন
জাতীয় স্তরে ছবি রিলিজ করতে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, স্বাধীন চলচ্চিত্রকার হিসেবে সেই সামর্থ্য ছিল না অঞ্জনের। তাই বিশ্বের দরবারে ছবিটিকে পৌঁছে দিতে ওটিটি-কে মাধ্যম করেছিলেন তিনি। আজ সেই ছবি জাতীয় পুরস্কার পেতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অঞ্জন দত্ত।
তিনি বলেন—
“ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। নিজেরাই টাকা দিয়ে তৈরি করেছি। দেশ-বিদেশের নানা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও ছবিটি বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছে। তবে জাতীয় পুরস্কারের তো একটা আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। মৃণালদার সঙ্গে আমার হৃদ্যতা একটু অন্যরকমের। আমি যে ভাবে মৃণালদাকে দেখেছি, ঠিক সেই ভাবেই তাঁকে পর্দায় আনতে চেয়েছিলাম। আশা করি আমি পেরেছি। জাতীয় পুরস্কার আমাকে সেই সাহস জোগাল।”
. “এখনও ধাতস্থ হতে পারছি না”— শাওন চক্রবর্তী
‘চালচিত্র এখন’ ছবিতে তরুণ অঞ্জন দত্তর ভূমিকায় পর্দায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন অভিনেতা শাওন চক্রবর্তী। তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কাজ আজ জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত অভিনেতা।
খবরটি শোনার পর শাওন বলেন, “সবেমাত্র শুনলাম খবরটা। এখনও ধাতস্থ হতে পারিনি। আনন্দ হচ্ছে ভীষণ। অঞ্জনদার সঙ্গেও কথা হয়নি এখনও। একটা অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
[চালচিত্র এখন: ছবির প্রোফাইল ও সাফল্য]
* পরিচালক ও প্রযোজক: অঞ্জন দত্ত (সহ-প্রযোজক: নীল দত্ত)।
* মূল বিষয়বস্তু: কিংবদন্তি মৃণাল সেনের জীবন ও অঞ্জন দত্তর সাথে তাঁর আত্মিক বন্ধুত্ব।
* মৃণাল সেনের চরিত্রে: অঞ্জন দত্ত নিজেই।
* অঞ্জন দত্তর চরিত্রে: শাওন চক্রবর্তী।
* রিলিজ মাধ্যম: ওটিটি প্ল্যাটফর্ম (চলচ্চিত্র উৎসবের পর)।
. বন্ধুত্বের খতিয়ান ও সাহসের জয়
মৃণাল সেনের সঙ্গে অঞ্জন দত্তর সম্পর্ক শুধু পরিচালক আর অভিনেতার ছিল না, তা ছিল অনেকটাই নিখাদ বন্ধুর মতো। মৃণাল সেনের হাত ধরেই অঞ্জন দত্তর চলচ্চিত্রে অভিনেতা হিসেবে পথ চলা শুরু হয়েছিল।
তাই গুরুকে পর্দায় তুলে ধরার সময় কোনো বাণিজ্যিক বা কৃত্রিমতার আশ্রয় নিতে চাননি তিনি। সেই কারণেই নিজের ও পুত্র নীল দত্তর জমানো পুঁজি দিয়ে এই স্বাধীন ধারার ছবি তৈরি করেন। আর আজ দিল্লির দরবারে ‘সেরা বাংলা ছবি’-র তকমা পেয়ে প্রমাণ হলো— ভালো কনটেন্ট ও সততা থাকলে প্রেক্ষাগৃহ ছাড়াও জাতীয় মঞ্চ জয় করা সম্ভব।
এক নজরে ৭২তম জাতীয় পুরস্কার ও ‘চালচিত্র এখন’:
| ক্যাটাগরির ক্ষেত্র | বিবরণ ও খুঁটিনাটি |
| পুরস্কারের নাম | ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (National Film Awards)। |
| বিভাগ | সেরা বাংলা ছবি (Best Bengali Film)। |
| শ্রদ্ধার্ঘ্য ব্যক্তিত্ব | বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন। |
| সংগীত পরিচালনা | নীল দত্ত (নীল ও অঞ্জন জুটির প্রযোজনা)। |
| চলতি স্থিতি | ওটিটি মঞ্চে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য উপলব্ধ। |
বাংলা সিনেমার জগতে অঞ্জন দত্তর এই জয় স্পষ্ট করে দিল যে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখন আর কেবল বাণিজ্যিক সিরিজের জায়গা নয়, তা ভালো সিনেমার সমান্তরাল রূপোলি পর্দাও হতে পারে। মৃণাল সেনের ঘরানার সিনেমাকে যেভাবে অঞ্জন সেলুলয়েডে পুনর্জীবিত করেছেন, এই জাতীয় পুরস্কার তারই যোগ্য সম্মান। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত মহল থেকে এখন অঞ্জন দত্ত ও শাওন চক্রবর্তীকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।






