অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্যে আল কায়েদার জঙ্গি নিয়োগ, গ্রেপ্তার ২

অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ! দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের ৬ জেলায় জাল বিস্তার করছে আল কায়েদা
অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমেই চলছে জঙ্গি নিয়োগের ‘খেলা’। ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়েদা বা ‘আকিস’ (AQIS) দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের অন্তত ৬টি জেলায় তাদের গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার ও নোদাখালি থেকে তেলেঙ্গানা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) যৌথ অভিযানে দুই জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
গেমিং অ্যাপ থেকে মগজধোলাই
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বিভিন্ন অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমেই ‘আকিস’-এর সদস্যরা তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করে। একাধিক গেমিং অ্যাপে যোগ দেয় জঙ্গিদের লিঙ্কম্যানরা। গেম খেলার ছলেই তারা অ্যাপের সদস্যদের ওপর নজর রাখে। এরপর তাদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া কয়েকজনের সঙ্গে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে যোগাযোগ করা হয়। অ্য়াপ কলের মাধ্যমে কথা বলে তাদের মগজধোলাই করার চেষ্টা চালানো হয়।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে শুরু হয় কট্টরপন্থী মানসিকতা তৈরির কাজ।
- মগজধোলাইয়ের অঙ্গ হিসেবে জাতীয় সঙ্গীতের নকল করে প্যারোডি বানিয়ে শোনানো হয়।
- আল কায়েদা ও আইএস-এর সপক্ষে বিভিন্ন যুদ্ধের ভিডিও এবং ওসামা বিন লাদেনের ভাষণ শোনানো হয়।
- ভারতের জাতীয় পতাকা ‘মর্ফ’ করে আইএস-এর পতাকায় পরিণত করার মতো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানো হয়।
পাক হ্যান্ডলারের যোগ ও গ্রেপ্তারির জাল
ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই জঙ্গিদের পেছনেও রয়েছে পাকিস্তানের হ্যান্ডলার। কীভাবে তারা নেটওয়ার্ক বিস্তার করবে, তার সমস্ত নির্দেশ আসত পাকিস্তান থেকেই। এর আগে বাঁকুড়া-সহ দেশের সাতটি রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করার পর আল কায়েদার পাকিস্তানি হ্যান্ডলার আল হাকিম শুকুরের নাম সামনে এসেছিল। এবার ভাঙড়ের জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ এবং নোদাখালির মহম্মদ সফিক শেখকে গ্রেপ্তারের পর শুকুরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে এই জঙ্গি নেটওয়ার্ক জাল ছড়াচ্ছে। এর আগে বাঁকুড়ার খাতরা থেকে মির আসিফ আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এদিকে পাক চর সংস্থা আইএসআই-এর বিশেষ শাখা এই কাজে নিযুক্ত রয়েছে বলে অনুমান গোয়েন্দাদের। তারা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে উসকানিমূলক ভিডিও সরবরাহ করে। গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে ফেসবুকে তৈরি ‘মুঘলে আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সবিলিল্লাহ’-র মতো কিছু অ্যাকাউন্ট। এই ধরনের আরও সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপের সন্ধান পেতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।






