Argentina vs Spain World Cup Final: ফুটবলের শেষে হাতাহাতি! রদ্রির সঙ্গে তর্ক থেকে গাভিকে ধাক্কা, ম্যাচের শেষে লাল কার্ড লাল-সাদা-নীল শিবিরের পারেদেসকে

source : সংবাদ প্রতিদিন
বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল ম্যাচটি জুড়ে দর্শকরা উপভোগ করেছিলেন দুই পরাশক্তির নান্দনিক ফুটবল। তবে মাঠের ৯০ মিনিটের সেই সংযম আর ভদ্রতা কর্পূরের মতো উবে গেল রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ম্যাচ শেষের শেষ বাঁশিটার সাথেই। স্পেনের ট্রফি জয়ের উল্লাস আর আর্জেন্টিনার ফাইনাল হারার চরম হতাশা মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল হাতাহাতি ও মারামারিতে। যে বিশ্বমঞ্চে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার কথা, সেখানে শেষ দৃশ্যে দেখা গেল গলা চেপে ধরা, ধাক্কাধাক্কি এবং কোচের মেজাজ হারানোর চরম বিতর্কিত এক ছবি।
৯৬ মিনিটের সংযম ভেঙে পারদেসের তোপ ও লাল কার্ড
ম্যাচে নামার মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে একটা অপ্রয়োজনীয় কড়া ট্যাকল করে হলুদ কার্ড আগেই দেখেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই তাঁর রাগ বাঁধ মানে না। স্প্যানিশ ফুটবলাররা যখন উল্লাসে মেতে উঠেছেন, ঠিক তখনই স্পেনের সেন্টার-ব্যাক এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন পারেদেস।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। পরিস্থিতি সামলাতে উদীয়মান তারকা গাভি এগিয়ে এলে তাঁকে সজোরে ধাক্কা মেরে মাঠে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পারেদেসের বিরুদ্ধে। এই কুরুচিকর আচরণের মাশুল হিসেবে ম্যাচ শেষের পরও রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড (Red Card) দেখান।
ময়দানে শান্ত স্কালোনি! গার্সিয়ার সাথে উত্তপ্ত তরজা
মাঠের মাঝখানে পরিস্থিতি যখন দ্রুত হাতাহাতির আকার নিচ্ছিল, তখন দুই দলের সাপোর্ট স্টাফ ও বেঞ্চের খেলোয়াড়রা ছুটে আসেন ঝামেলা মেটাতে। নিজের প্লেয়ারদের শান্ত করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
কিন্তু সেই সময় স্পেনের এরিক গার্সিয়া কিছু একটা বলতেই মেজাজ হারান সাধারণত ঠান্ডা মাথার মানুষ হিসেবে পরিচিত স্কালোনি। গার্সিয়ার দিকে তর্জনী উঁচিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে তর্ক করতে দেখা যায় তাঁকে। স্কালোনিকে ফুটবল ক্যারিয়ারে বা কোচিং জীবনে এভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাতে খুব কমই দেখা গিয়েছে।
[ফাইনাল শেষের অনভিপ্রেত নাটকের ঘটনাক্রম]
* শেষ বাঁশি বাজাল রেফারি: স্প্যানিশদের উৎসব বনাম আর্জেন্টাইনদের কান্না ও ক্ষোভ।
* বচসার সূচনা: লিয়ান্দ্রো পারেদেস বনাম এরিক গার্সিয়া।
* শারীরিক আক্রমণ: গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং গার্সিয়ার গলা টিপে ধরা।
* শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: ম্যাচ শেষে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড।
* অনাকাঙ্ক্ষিত ভূমিকা: এরিক গার্সিয়ার ওপর চড়াও কোচ লিওনেল স্কালোনি।
রদ্রি-ওটামেন্ডি বাক্বিতণ্ডা ও ট্রফির ওপর কালো দাগ
হাতাহাতির এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে মাঠের অন্যান্য প্রান্তেও। স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির দিকে তেড়ে যান আর্জেন্টিনার প্রবীণ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি। যদিও তাঁদের মধ্যকার লড়াইটি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়নি, কেবল কড়া বাক্যবাণেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, একটি অনবদ্য বিশ্বকাপ ফাইনাল যেভাবে শৈল্পিক ফুটবলের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তের এই অযাচিত ঝামেলা এবং লাল কার্ডের ঘটনাটি ঐতিহাসিক এই ফাইনালের গায়ে একটি বড়সড় কালিমালিপ্ত দাগ ফেলে দিল।
এক নজরে ম্যাচ পরবর্তী বিশৃঙ্খলা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান স্থিতি |
| সংঘর্ষের মূল অভিযুক্ত | লিয়ান্দ্রো পারেদেস (আর্জেন্টিনা)। |
| আক্রান্ত স্প্যানিশ তারকা | এরিক গার্সিয়া ও গাভি। |
| রেফারির সিদ্ধান্ত | লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড। |
| আর্জেন্টিনা কোচের ভূমিকা | নিজের মেজাজ হারিয়ে এরিক গার্সিয়ার ওপর চড়াও হওয়া। |
| অন্যান্য বিবাদ | রদ্রি বনাম নিকোলাস ওটামেন্ডির তীব্র মৌখিক বিতর্ক। |
বিশ্বকাপ ফাইনালের এই অনভিপ্রেত সমাপ্তি আরও একবার প্রমাণ করল, জয়ের আনন্দের মতো হারের বিষাদকেও মানিয়ে নেওয়া সমান কঠিন। স্পেনের বিশ্বজয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে কিছুটা হলেও আবছা করে দিল এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ। এখন দেখার, ম্যাচের পর রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ তাঁর অফিসিয়াল রিপোর্টে এই হাতাহাতি ও স্কালোনি-পারেদেসদের ভূমিকা নিয়ে ফিফার কাছে কী রিপোর্ট জমা দেন এবং ফিফা এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না।






