রবীন্দ্রনাথের ১৯টি বই এখনও অমেরামত! বই ফেরত না দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কড়া বার্তা মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষের

আইনের চোখে সবাই সমান: সরব মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ
মঙ্গলবার সিউড়িতে বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের ১২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিধানসভার বই বিতর্ক নিয়ে সরব হন রাজ্যের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ পাঠক নিয়ম ভাঙলে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর “আইনের শাসন সকলের জন্য সমান” নীতি উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশিষ্ট ব্যক্তি বলে আলাদা সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
[গ্রন্থাগার থেকে ১৯টি বই গ্রহণ] ➔ [নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম] ➔ [বিধানসভা চেম্বারে বই থাকার দাবি] ➔ [আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর]
বিধানসভা চেম্বার ও বই জমা সংক্রান্ত জটিলতা
বিধানসভার গ্রন্থগার কর্মীরা যোগাযোগ করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে বইগুলি তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে বা বাড়িতে নেই; রয়েছে বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারে। তবে প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, চেম্বারে থাকলেও বইগুলি খাতায়-কলমে তখনই ‘ফেরত’ ধরা হবে, যখন তা সরাসরি লাইব্রেরিতে জমা পড়বে।
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| গৃহীত বইয়ের বিবরণ | রবীন্দ্র রচনাবলী (১৮টি খণ্ড) এবং ‘সঞ্চয়িতা’ (১টি) — মোট ১৯টি বই। |
| বর্তমান অবস্থান সংক্রান্ত দাবি | বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট চেম্বার (যা এখন বিরোধী প্রধানের এক্তিয়ারভুক্ত)। |
| গ্রন্থাগারের নিয়ম | সরাসরি গ্রন্থাগারে হস্তান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত তা ‘বকেয়া’ হিসেবেই গণ্য হবে। |
গ্রন্থাগার নীতিতে পরিবর্তন ও ‘রাষ্ট্রবাদী’ সাহিত্য সংকলন
অতীত সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি লাইব্রেরিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই কেনার নির্দেশিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন গৌরীশংকর ঘোষ। তিনি দাবি করেন, দলীয় স্বার্থে ওইসব বই কেনানো হয়েছিল এবং তিনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই লাইব্রেরিগুলি থেকে সেই বই সরানোর আদেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, আগামী দিনে রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলিতে দেশপ্রেম, ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কিত সাহিত্য নিশ্চিত করতে স্বামী বিবেকানন্দ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের লেখা বইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।






