বেঙ্গালুরু থেকে ধৃত নোয়াপাড়ার যুবক আশাফুল, তেহেরিক-ই-তালিবান যোগে বাদুড়িয়ার বাড়িতে এসটিএফের তল্লাশি

বাংলা থেকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি কার্যকলাপের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ফের নতুন চাঞ্চল্য। বেঙ্গালুরু থেকে কর্ণাটক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলো উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী যুবক আশাফুল মালিক। নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করার আড়ালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP)-এর সাথে অনলাইন মারফত যুক্ত হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। ধৃতের শিকড় ও নেটওয়ার্কের সন্ধান পেতে বাদুড়িয়ায় তার বাড়িতে তল্লাশি প্রবাদ চালাল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)।
বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি ও তালিবান যোগ
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আশাফুল মালিক বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার যশাইকাটি-আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
২০২৫ সালে সে বেঙ্গালুরুর জিগানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার ‘টাটা অ্যাডভান্স লিমিটেড’-এ নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজে যোগ দেয়। কিন্তু চাকরির আড়ালে সে অনলাইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’-এর বিভিন্ন মতাদর্শ ও কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে।
[অভিযুক্তের পরিচয় ও টাইমলাইন]
* নাম: আশাফুল মালিক (বয়স: ২৫ বছর)
* মূল বাসস্থান: নোয়াপাড়া, বাদুড়িয়া, উত্তর ২৪ পরগনা (পশ্চিমবঙ্গ)
* কর্মস্থল (২০২৫ থেকে): জিগানি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, বেঙ্গালুরু (নিরাপত্তারক্ষী)
* যুক্ত সংগঠন: তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই ও আফগানিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা
পুলিশি জেরায় আশাফুল স্বীকার করেছে, আফগানিস্তান সীমান্তে সাধারণ নাগরিকদের ওপর পাকিস্তান সেনার লাগাতার হামলার খবর ও ভিডিও দেখে সে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ভারত-বিরোধী উসকানি ও আফগান নাগরিকদের ওপর অত্যাচারের গল্প শুনে সে পাকিস্তানি সেনার ওপর প্রতিশোধ নিতে উদগ্রীব ছিল।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে যোগ দিতে সে আফগানিস্তানের ভিসার জন্য আবেদনও করেছিল। তবে আফগানিস্তান পাড়ি দেওয়ার আগেই কর্ণাটক পুলিশের নজরদারিতে ধরা পড়ে যায় সে।
বাদুড়িয়ার পৈতৃক বাড়িতে রাজ্য এসটিএফের হানা
শনিবার (১৫ আগস্ট) কর্ণাটক পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং রাজ্য পুলিশের এসটিএফের সহায়তায় আশাফুল মালিকের বাদুড়িয়ার যশাইকাটি-আটঘরা এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে:
- আশাফুল একা নাকি স্থানীয় এলাকায় আরও কাউকে এই জঙ্গি চক্রে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
- তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কিনা।
- তার ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা।
এক নজরে মামলার বিবরণ:
| বিবরণ | তথ্য |
| ধৃত অভিযুক্ত | আশাফুল মালিক |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | কর্ণাটক পুলিশ (সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ) |
| অভিযোগের ভিত্তি | তেহেরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানে যোগদান ও আফগানিস্তানে পাড়ি দেওয়ার ছক |
| তল্লাশির স্থান | নোয়াপাড়া, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) |
| বর্তমান অবস্থা | হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া জারি |
নিরাপত্তারক্ষীর চাকরির আড়ালে সাধারণ এক বঙ্গীয় যুবকের এভাবে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীতে ভিড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দারা। কর্ণাটক পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ যৌথভাবে আশাফুলকে জেরা করে তার পেছনের মূল হ্যান্ডলারদের পরিচয় বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।






