মোদির আমন্ত্রণে সাড়া! সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, গালওয়ান পরবর্তী প্রথম ভারত সফর

পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর থেকে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে এবার বড়সড় কূটনৈতিক বরফ গলনের সংকেত। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মোদির আমন্ত্রণ ও চিনের ইতিবাচক সমর্থন
চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্বের দায়িত্ব রয়েছে ভারতের কাঁধে। বিদেশ মন্ত্রক প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, ২৫তম সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বৈঠকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
- জবাবে মোদিকে ধন্যবাদ জানান চিনা প্রেসিডেন্ট।
- ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস সম্মেলনকে চিনের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
- সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির এই মেগা আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেন শি জিনপিং।
[ভারত-চীন শীর্ষ বৈঠক ও কূটনৈতিক টাইমলাইন]
* অক্টোবর ২০১৯: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শেষ ভারত সফর (মামল্লাপুরম ইনফরমাল সামিট)।
* জুন ২০২০: লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত।
* আগস্ট ২০২৫: এসসিও সম্মেলনের মঞ্চে মোদি-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ব্রিকসের আমন্ত্রণ।
* সেপ্টেম্বর ২০২৬: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিতির সম্ভাবনা।
গালওয়ান সংঘাতের পর প্রথম ভারত সফর
সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে তামিলনাড়ুর মামল্লাপুরমে (মহাবলীপুরম) প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিতীয় ইনফরমাল বা অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন শি জিনপিং। কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যভাগে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ভয়াবহ গালওয়ান সংঘর্ষের পর দু দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র ফাটল ধরে।
পরবর্তী কয়েক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও চিনা প্রধানের ভারত সফর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সেপ্টেম্বরের এই সম্ভাব্য সফর হবে গালওয়ান পরবর্তী অধ্যায়ে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারতীয় ভূখণ্ডে আগমন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি বৈঠকের গুরুত্ব
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ব্রিকস সম্মেলনে শুধুমাত্র চিনের প্রেসিডেন্টই নন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ রাষ্ট্রনেতারা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে ভারত যে এই সম্মেলনে এক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাকারীর ভূমিকা পালন করবে, সে বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
এক নজরে ব্রিকস ২০২৬ ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফর:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| অনুষ্ঠান | ২৩তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন |
| আয়োজক দেশ | ভারত (সভাপতি দেশ) |
| স্থান ও সময় | নয়াদিল্লি (১২-১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) |
| বিশেষ অতিথি | শি জিনপিং (চিনের প্রেসিডেন্ট) |
| ঐতিহাসিক গুরুত্ব | গালওয়ান সংঘাতের পর প্রথম ভারত সফর |
ভারত ও চিন—বিশ্বের দুই বৃহত্তম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে স্থিতিশীল কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এশিয়ার পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। নয়াদিল্লিতে শি জিনপিংয়ের এই আগমন দুই দেশের সীমান্তে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অমীমাংসিত সমস্যাগুলি নিরসনে নতুন দিশা দেখায় কি না, আন্তর্জাতিক মহল সেদিকেই আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে।






