Durga Puja 2026: ক্লাব পিছু ১ লক্ষ অনুদান, মহালয়ার পর পুজোর উদ্বোধন

পালাবদলের পর বাংলায় এবার প্রথম দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবেই পুজোর উদ্বোধন কবে হবে, কার্নিভ্যাল হবে কি না, ক্লাবগুলি কত টাকা অনুদান পাবে—এসব নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান হিসেবে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান না নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বড় পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বড় বাজেটের কমিটিকে আবেদন, আপনারা আর্থিক সাহায্য নেবেন না। আপনাদের আমি ধন্যবাদ জানাব।”
অনুদান পাওয়ার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়েও বৈঠকের পর বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচ নেই
এবারের দুর্গাপুজোয় পুজো কমিটিগুলিকে আরও একটি সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, পুজোর জন্য বিদ্যুৎ এবং দমকলের কোনও খরচ দিতে হবে না ক্লাবগুলিকে।
ফলে অনুদানের পাশাপাশি এই দুই খাতে খরচ না থাকায় পুজো কমিটিগুলির আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মহালয়ার আগে কোনও উদ্বোধন নয়
গত কয়েক বছর ধরেই বাংলায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন মহালয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকে শুরু হয়ে যেত। এবার সেই ধারায় বদল আনতে চাইছে নতুন সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মাতৃপক্ষ শুরুর আগে কোনও দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। অর্থাৎ মহালয়ার আগে কোনও পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে না।
মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে একটি মেগা শোর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবার হবে না দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল
পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল নিয়েও এদিন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কলকাতায় বর্ণাঢ্য কার্নিভ্যাল আয়োজন করা হলেও এবার আর সেই অনুষ্ঠান হবে না।
তার পরিবর্তে সরকারের তরফে শারদ সম্মান আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জন
বিসর্জনের সময়সীমা নিয়েও নির্দেশিকা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
এবার বিসর্জনে ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
অনুদানের অঙ্কে বদল
তৃণমূল সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছিল। প্রথম বছরে প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই অনুদানের পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়েছে।
২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পালাবদলের পর বড় পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিল।
শেষ পর্যন্ত সোমবারের বৈঠকের পর সব পুজো কমিটির জন্য ১ লক্ষ টাকা অনুদানের কথা ঘোষণা করা হল। পাশাপাশি বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
অনুদান, বিদ্যুৎ ও দমকলের খরচে ছাড়, মহালয়ার আগে উদ্বোধনে নিষেধাজ্ঞা, কার্নিভ্যাল বাতিল এবং বিসর্জনের সময়সীমা—সব মিলিয়ে পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক নতুন নিয়ম সামনে এল।






