লালবাজারের গোয়েন্দা সেজে চালিয়াতি! বাঁশদ্রোণীতে রিকশায় পাঠিয়ে ব্যবসায়ীর সাড়ে ৮৪ হাজারের সিগারেট লুট দুষ্কৃতীর

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানাল কলকাতার রাস্তার এই ঘটনা। অপরাধের নিত্যনতুন ছকের ভিড়ে এবার যুক্ত হলো ভুয়া পুলিশের চাঞ্চল্যকর কারসাজি। দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ত বাঁশদ্রোণী থানা এলাকায় সাধারণ এক সিগারেট সরবরাহকারীকে টার্গেট করে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের (DD) ভুয়া অফিসার সেজে হাজার হাজার টাকার সিগারেট লুটে নিল এক দুষ্কৃতী।
রাস্তা আটকে বিল ও নথিপত্র দেখতে চাওয়ার অভিনয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, আক্রান্ত সিগারেট বিক্রেতা প্রতিদিনের মতো সাইকেলে চেপে বিভিন্ন দোকান ও এলাকায় নামী ব্রান্ডের সিগারেটের কার্টন সরবরাহ করছিলেন। সাইকেলের ক্যারিয়ারে সাজানো ছিল বিভিন্ন মূল্যের সিগারেটের কার্টন।
বাঁশদ্রোণীর একটি নির্জন রাস্তায় আচমকা তাঁর পথ আটকায় ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি। নিজেকে সটান লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের (DD) আধিকারিক বলে পরিচয় দেয় সে। এরপরই ব্যবসায়ী বৈধ উপায়ে এই সিগারেট বিক্রি করছেন কি না, তা নিয়ে তল্লাশি চালাতে চায় এবং ক্রয়ের রসিদ বা নথি দেখতে দাবি করে।
[প্রতারণার সাজানো ছক]
* ধাপ ১: সাইকেলে সরবরাহ করার সময় পথ আটকে 'লালবাজারের গোয়েন্দা' পরিচয়।
* ধাপ ২: চালান ও নথি দেখতে চাওয়া; ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুলতেই মারধর ও হুমকি।
* ধাপ ৩: রিকশা ডেকে ব্যবসায়ীকে 'হোলসেলারের স্ট্যাম্প' আনতে পাঠানো।
* ধাপ ৪: ফাঁকা জায়গায় সাইকেল ফেলে রেখে ৮৪,৬৪৫ টাকার সিগারেট নিয়ে চম্পট!
রিকশা ডেকে কৌশলে সরানো হলো ব্যবসায়ীকে
ব্যবসায়ীর মনে সন্দেহ জাগায় তিনি পালটা প্রশ্ন করলে, ওই ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে ভয় দেখায়, এমনকি গায়ে হাতও তোলে বলে অভিযোগ। এরপর ব্যবসায়ীর হাতে থাকা ক্যাশ মিমো বা বিলে গলদ রয়েছে দাবি করে, তাতে মূল হোলসেলারের অফিসিয়াল স্ট্যাম্প বানিয়ে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হুমকিতে ভয় পেয়ে যান ওই সাধারণ বিক্রেতা। অভিযুক্ত নিজেই রাস্তা থেকে একটি রিকশা ডেকে ব্যবসায়ীটিকে হোলসেলারের কাছে যেতে বলে। সেই সঙ্গে সে আশ্বাস দেয়—ব্যবসায়ী ফিরে না আসা পর্যন্ত তাঁর সিগারেট ও সাইকেল পুলিশ পাহারায় সুরক্ষিত থাকবে।
ফিরে এসে সাইকেল মিললেও হাওয়া সাড়ে ৮৪ হাজারের সরঞ্জাম
ভুয়ো আধিকারিকের কথামতো চালানে স্ট্যাম্প লাগিয়ে দ্রুত ফিরে আসেন ব্যবসায়ী। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! তিনি দেখেন, রাস্তায় তাঁর সাইকেলটি একাই দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু ক্যারিয়ারে থাকা ৮৪ হাজার ৬৪৫ টাকা মূল্যের সমস্ত সিগারেটের কার্টন হাওয়া! একই সঙ্গে উধাও হয়ে গেছে সেই ‘গোয়েন্দা অফিসার’-ও।
তৎক্ষণাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি এক চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারক ব্যক্তিটি আদৌ কোনো পুলিশ ছিল না; বরং সিগারেট হাতানোর জন্যই লালবাজারের নাম ভাঙিয়ে এই নাটক ফেঁদেছিল।
এক নজরে বাঁশদ্রোণীর প্রতারণাকাণ্ড:
| বিষয় | তথ্য / বিবরণ |
| ঘটাস্থল | বাঁশদ্রোণী, দক্ষিণ কলকাতা |
| লুট হওয়া সামগ্রী | ৮৪,৬৪৫ টাকার নামী ব্র্যান্ডের সিগারেট |
| অভিযুক্তের পরিচয় | ভুয়া লালবাজার ডিটেকটিভ অফিসার |
| তদন্তকারী থানা | বাঁশদ্রোণী থানা, কলকাতা পুলিশ |
| বর্তমান অবস্থা | সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে সনাক্তকরণের চেষ্টা |
ঘটনার পরপরই বাঁশদ্রোণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্ত দুষ্কৃতী দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যবসায়ীর যাতায়াত এবং কাজের রুটিন পর্যবেক্ষণ করে এই লুটের ছক কষেছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ।






