FSSAI New Rule: অনলাইনে খাবার কেনার আগে দেখা যাবে লেবেল ও এক্সপায়ারি ডেট

দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে কেনাকাটার অভ্যাসও। গত কয়েক বছরে অনলাইনে মুদিপণ্য, প্যাকেটজাত খাবার এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে প্রায় স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দোকানে গিয়ে কোনও খাবার কেনার সময় যে পণ্যের লেবেল, উপাদান, মেয়াদ ও এক্সপায়ারি ডেট খুঁটিয়ে দেখা যায়, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই তথ্য স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না।
এই সমস্যার সমাধানে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। কুইক কমার্স এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে অনলাইনে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের লেবেল ও মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য আরও স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে খাবার কেনার আগে দেখা যাবে এক্সপায়ারি ডেট
FSSAI-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিত পুনহানির তথ্য অনুযায়ী, কুইক কমার্স ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে খাদ্যপণ্যের প্যাকেজ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এক্সপায়ারি ডেট স্পষ্টভাবে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নিয়ম কার্যকর করার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এরপর অনলাইনে কোনও প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে ক্রেতারা যাতে পণ্যের লেবেল এবং মেয়াদ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে।
ফলে দোকানে গিয়ে প্যাকেট হাতে নিয়ে যে তথ্যগুলি যাচাই করা যায়, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এবার সেই একই সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
‘শুধু মধ্যস্থতাকারী’ বলে দায় এড়াতে পারবে না ই-কমার্স সংস্থা
FSSAI-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য, খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি নিজেদের শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করে দায় এড়িয়ে যেতে পারে না।
তাঁর মতে, কোনও খাদ্যপণ্য যখন কোনও প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত এবং বিক্রি হচ্ছে, তখন সেই পণ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিরও দায়িত্ব রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায় থেকে তারা নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে না।
এই নির্দেশের ফলে অনলাইন খাদ্যবাজারে পণ্যের তথ্য প্রদর্শন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আরও স্বচ্ছতা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক বছরে ৩৩ হাজার আইনি পদক্ষেপ
খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা ও নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গত এক বছরে FSSAI প্রায় ৩৩,০০০টি আইনি পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই সময়ে ১ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
তবে এত বিপুল সংখ্যক আইনি পদক্ষেপের তুলনায় আর্থিক জরিমানার পরিমাণ যথেষ্ট কম—এমন সমালোচনাও রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বড় ব্র্যান্ড বা সংস্থার ক্ষেত্রে এই ধরনের জরিমানা আদৌ যথেষ্ট কি না।
‘জরিমানা কম হলেও প্রভাব পড়ে’, দাবি FSSAI-এর
এই সমালোচনার জবাবে FSSAI-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনও ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সামান্য আর্থিক জরিমানাও তার সুনামের উপরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিপুল সংখ্যক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এই তথ্যই দেখায় যে FSSAI-এর আইন প্রয়োগের কাঠামো কার্যকর রয়েছে।
সব মিলিয়ে অনলাইনে খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে এবার আরও স্বচ্ছতা আসতে চলেছে। পণ্যের প্যাকেজের তথ্য থেকে শুরু করে এক্সপায়ারি ডেট—ক্রেতাদের হাতে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে দেওয়ার জন্য কুইক কমার্স ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।






