বাংলার মাটিতে বিশ্বমানের স্কুল তৈরির দাবি! ছেলের লড়াইয়ে অবিচল মৃত মাফিকের পরিবার

শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একটি সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার মাশুল গুণতে হলো প্রাণ দিয়ে। বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের তরুণ শেখ আবদুল হাফিজের সমাজ সংস্কারের কাজ মেনে নিতে পারেনি দুষ্কৃতীরা। ছেলের ওপর হামলা ঠেকাতে গিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো পঞ্চাশোর্ধ্ব বাবা শেখ মাফিক শেষ পর্যন্ত বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে মুহ্যমান পরিবার, তবুও এতটুকু অনড় নয় তাঁদের আদর্শ। সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য ফেরদৌস বা হাফিজের মুখে শোনা গেল না কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া। বরং তাঁদের দাবি, বাবার স্মৃতিতে যেন বাংলার যে কোনো প্রান্তে একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করা হয়।
আদৰ্শ থেকে একচুলও সরে আসেননি হাফিজ:
দরিদ্র পরিবারের একমাত্র অভিভাবকের মৃত্যুর পর যেখানে ভেঙে পড়ার কথা, সেখানে হাফিজের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্কল্প। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা দেখে প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্কুলটির হাল ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এই তরুণ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও এসএফআইয়ের প্রাক্তনী হিসেবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বদলের লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ইন্দাসের বাড়িতে এসে আর্থিক সাহায্যের কথা বললেও, সেই প্রস্তাব স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন হাফিজ।
সংবাদমাধ্যমের সামনে দৃঢ়কণ্ঠে হাফিজ জানিয়েছেন:
‘‘আমরা কোনো আর্থিক সাহায্য চাই না। যদি সরকার মনে করে আমাদের কোনো ক্ষতি হয়েছে, তবে বাংলার যে কোনো প্রান্তে একটা বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করুক এবং তার নাম দিক আমার বাবার নামে। সেই স্কুলে যেন সবাই বিনামূল্যে ভালো শিক্ষা পায়। আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতির লড়াইয়ে নেমেছি, তা না করা পর্যন্ত এই লড়াই শেষ হবে না।’’
শোকেও অবিচল দেশপ্রেম:
পিতা হারানোর এই চরম বেদনার মাঝেও হাফিজের মায়ের কণ্ঠেও শোনা গেছে দেশের স্বার্থের কথা। অন্যদিকে, মৃত মাফিকের প্রবীণা মা তথা হাফিজের ঠাকুমা জাহানারা বেগম বারবার জ্ঞান হারালেও সুস্থ হয়ে ওঠার পর একটাই কথা বলে চলেছেন— ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। ব্যক্তিগত শোককে ছাপিয়ে তাঁদের এই দেশপ্রেমের নজির এখন সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এবং সকলের মুখে মুখে ফিরছে।






