IND W vs ENG W Test: লর্ডসে ‘ওমেন্স ইন ব্লু’র ঐতিহাসিক টেস্ট জয়! শচীনের পেপ টক, যস্তিকা-ক্রান্তিদের দাপটে ২৭০ রানে চূর্ণ ইংল্যান্ড

source : সংবাদ প্রতিদিন
ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসের সবুজ গালিচায় রচিত হলো ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের এক সোনালী অধ্যায়। লর্ডসের ইতিহাসে প্রথমবার আয়োজিত মেয়েদের টেস্ট ম্যাচেই দাপুটে জয় ছিনিয়ে নিল ‘ওমেন্স ইন ব্লু’ (Women in Blue)। ব্যাটে-বলে ইংল্যান্ডের মেয়েদের নিয়ে ছেলেখেলা করে ২৭০ রানের এক ঐতিহাসিক টেস্ট জয় হাসিল করলেন হরমনপ্রীত কৌররা। আর লর্ডসের গ্যালারিতে বসে ভারতের মেয়েদের এই দাপট তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন স্বয়ং ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’ শচীন তেণ্ডুলকর।
ক্রান্তি গৌড়ের ৫ উইকেট ও লর্ডসের অনার্স বোর্ড
ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ভারতের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানার ৮৩ রানের ওপর ভর করে ২৮৫ রান তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় পেসার ক্রান্তি গৌড়ের (Kranti Gaur) সুইংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ।
মাত্র ৩৭ রান দিয়ে ৫টি মূল্যবান উইকেট তুলে নেন ক্রান্তি। মাইয়া বাউচিয়ের, তামসিন বিউমন্ট, ন্যাট স্কিভার-ব্রান্টের মতো তারকাদের ফিরিয়ে প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসে ৫ উইকেটের কীর্তি গড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৭০ রানেই শেষ হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ১১৫ রানের লিড পায় ভারত।
যস্তিকার রাজকীয় শতরান ও রিচার তাণ্ডব
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ব্যাটিংকে মজবুত ভিত এনে দেন স্মৃতি মন্ধানা (৭০) এবং উইকেটকিপার ব্যাটার যস্তিকা ভাটিয়া (Yastika Bhatia)। যস্তিকা লর্ডসের মাঠে ১৫৮ বলে ১১৩ রানের এক অনবদ্য, ধ্রুপদী ইনিংস খেলেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ১৪টি দর্শনীয় চার। ক্রান্তির পর দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসের ঐতিহাসিক অনার্স বোর্ডে সগর্বে নিজের নাম তুলে নেন যস্তিকা।
এরপর শেষবেলায় বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরির ওপর ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়প্রমাণ ৪৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা ঝুলিয়ে দেয় ভারত।
[লর্ডস টেস্টে ভারতের স্কোরকার্ড]
* ভারত ১ম ইনিংস: ২৮৫/১০ (স্মৃতি মন্ধানা ৮৩)
* ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৭০/১০ (ক্রান্তি গৌড় ৫/৩৭)
* ভারত ২য় ইনিংস: ৩৪১/ডিক্লেয়ার (যস্তিকা ভাটিয়া ১১৩, স্মৃতি মন্ধানা ৭০, রিচা ঘোষ ৫০+)
* ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ১৮৬/১০ (স্নেহ রানা ৪/৪২)
* ফলাফল: ভারত ২৭০ রানে জয়ী।
শচীনের ‘ভোকাল টনিক’ এবং স্নেহ রানার স্পিন ছোবল
৪৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে পঞ্চম তথা শেষ দিনের শুরুতে মাঠে হাই-ভোল্টেজ ড্রামা দেখা যায়। ভারতীয় ড্রেসিংরুমে আকস্মিক হাজির হন শচীন তেণ্ডুলকর। জয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে ভারতীয় মেয়েদের মানসিক চাঙ্গা করতে এক বিশেষ ‘পেপ টক’ বা উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
মাস্টার ব্লাস্টারের সেই পেপ টকের জাদু যেন নিমেষেই কাজ করে মাঠের ভেতর। স্পিনার স্নেহ রানা (Sneh Rana) বল হাতে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারে ধস নামান। ৪২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন স্নেহ। তাঁকে যোগ্য সংগত দিয়ে সায়ালি সাতঘারে, ক্রান্তি গৌড় ও দীপ্তি শর্মা ২টি করে উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় থ্রি-লায়নসরা। লর্ডসের বুকে প্রথম টেস্ট জয়ের মুকুট মাথায় পরে মাঠ ছাড়ে টিম ইন্ডিয়া।
এক নজরে লর্ডস টেস্টের হিরোরা:
| ক্রিকেটারের নাম | লর্ডস টেস্টের অনবদ্য পারফরম্যান্স | বিশেষ সম্মান / রেকর্ড |
| যস্তিকা ভাটিয়া | দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৮ বলে ১১৩ রান। | লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম নথিভুক্ত। |
| ক্রান্তি গৌড় | প্রথম ইনিংসে ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট। | লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম নথিভুক্ত। |
| স্মৃতি মন্ধানা | দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮৩ ও ৭০ রান। | ভারতের জয়ের মজবুত ভিত তৈরি। |
| স্নেহ রানা | দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট। | ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ধংস করা। |
লর্ডসের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, এটি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ক্ষমতায়নের এক বিরাট বিজ্ঞাপন। লর্ডসের মাঠে প্রথমবার খেলতে নেমে ইংল্যান্ডকে তাদেরই ঘরের মাঠে এভাবে হোয়াইটওয়াশ করা বা গুঁড়িয়ে দেওয়া হরমনপ্রীত কৌরের দলের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করে। ড্রেসিংরুমে শচীনের উপস্থিতি এবং মাঠের ভেতর যস্তিকা-ক্রান্তি-স্নেহদের পারফরম্যান্স আগামী দিনে ভারতের কোটি কোটি মেয়েকে ক্রিকেট ব্যাট-বল তুলে নিতে অনুপ্রাণিত করবে।






