Indian Cricketers Controversy: মদ্যপান ঘিরে বিতর্কে জড়ানো ক্রিকেটারদের তালিকা

ভারতীয় ক্রিকেটে তারকাদের মাঠের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায় থাকে, তেমনই মাঠের বাইরের জীবন নিয়েও কম বিতর্ক হয় না। বিশেষ করে মদ্যপান বা মদ্যপ অবস্থায় প্রকাশ্যে আসার অভিযোগে অতীতে একাধিক ক্রিকেটার ও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব শিরোনামে এসেছেন। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে ঘিরে ফের সেই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। ভিডিওটিতে পার্টির পরিবেশে ঋষভ পন্থকে টালমাটাল অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও।
তবে এই ধরনের বিতর্ক ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন নয়। অতীতেও একাধিক তারকা ক্রিকেটারকে ঘিরে মদ্যপান সংক্রান্ত নানা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
বিনোদ কাম্বলি
একসময় ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটার ছিলেন বিনোদ কাম্বলি। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ে বারবার খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। ২০২২ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে অন্য একটি গাড়িতে ধাক্কা মারার ঘটনায় মুম্বই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়।
এরপর ২০২৪ সালে রাস্তায় হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানোর একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওটি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
জ্যাকব মার্টিন
ভারতীয় ক্রিকেটে একসময় পরিচিত নাম ছিলেন জ্যাকব মার্টিন। চলতি বছরের সাধারণতন্ত্র দিবসের মধ্যরাতে, প্রায় আড়াইটে নাগাদ অ্যাকোটা এলাকার পুনীতনগরে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন তিনি বলে জানা যায়।
অভিযোগ, তাঁর গাড়ি একটি পার্কিং লটে গিয়ে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় তাঁর বিলাসবহুল গাড়ি-সহ আরও তিনটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা তাঁকে গাড়ির কাছ থেকে অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন বলে খবর। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ দুর্ঘটনার জন্য মার্টিনকে দায়ী করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা যায়।
প্রবীণ কুমার
একসময় তাঁর সুইং বোলিংয়ে সমস্যায় পড়তেন বিপক্ষের ব্যাটাররা। কিন্তু পরবর্তীতে প্রবীণ কুমারের ক্রিকেটজীবন দ্রুত থেমে যায়। ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত মহলের একাংশের দাবি ছিল, অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস তাঁর কেরিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
যদিও ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে প্রবীণ কুমার দাবি করেন, ভারতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার মদ্যপান করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বদনাম শুধু প্রকাশ্যে আসা ব্যক্তিরই হয়।
রবি শাস্ত্রী
২০১৮ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছিল ভারত। ৩৭ বছর পর মেলবোর্নে টেস্ট জয়ের পর গোটা ভারতীয় শিবিরে ছিল উৎসবের আবহ।
সেই সময় একটি ভিডিওকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয় তৎকালীন হেড কোচ রবি শাস্ত্রীকে নিয়ে। টিম বাসের সামনে সমর্থকদের নাচগান চলার সময় বাস থেকে নেমে তাঁকে বোতল থেকে বিয়ার পান করতে দেখা যায় বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়।
বিরাট কোহলি
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ফিট ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত বিরাট কোহলি নিজেই জানিয়েছেন, ২০১২ সালের আগে তাঁর জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস খুব একটা স্বাস্থ্যকর ছিল না। একটা সময় পার্টিতে মদ্যপান করতেন তিনি।
২০১২ সালের আইপিএলে ব্যর্থতার পর নিজের ফিটনেস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন কোহলি। এরপর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনেন। অতীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে মদের গ্লাস দেখা গেলেও পরবর্তীতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন বেছে নেন।
কেএল রাহুল
২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় সোশাল মিডিয়ায় হাতে বিয়ারের গ্লাস নিয়ে একটি ছবি পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কেএল রাহুল। ছবিতে তাঁর সঙ্গে উমেশ যাদব, স্টুয়ার্ট বিনি এবং টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যকেও দেখা গিয়েছিল।
ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিসিসিআই দলের ম্যানেজারকে বিষয়টি জানায় এবং ক্রিকেটারদের আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। বিতর্কের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুল সোশাল মিডিয়া থেকে ছবিটি মুছে দেন।
যুবরাজ সিং
বলিউডের পার্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান—একাধিক জায়গায় যুবরাজ সিংকে মদ্যপান করতে দেখা গিয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে।
তাঁকে ঘিরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন ‘বিগ বস ১০’-এর প্রতিযোগী আকাঙ্ক্ষা শর্মা। যুবরাজের বিরুদ্ধে গাঁজা সেবনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে যুবরাজের বাবা যোগরাজ সিং সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। যুবরাজের মা মানহানির মামলার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন বলে খবর।
২০১৭ সালে আকাঙ্ক্ষা গার্হস্থ্য হিংসার মামলাও করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৯ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয় এবং আকাঙ্ক্ষা ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে জানা যায়।
ইশান্ত শর্মা
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ইশান্ত শর্মাকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সিডনির একটি ‘বলিউড ক্লাব’-এর পার্টিতে ইশান্তের সঙ্গে সুরেশ রায়না ও ভুবনেশ্বর কুমারকে দেখা যায়—এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারত পিছিয়ে থাকার সময় সেই ছবি প্রকাশ্যে আসায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। চোটের কারণে ইশান্ত সিডনিতে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে খেলেননি। তবে পার্টির ছবিকে ঘিরে তখন প্রশ্ন উঠেছিল ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়েও।
ফের আলোচনায় ঋষভ পন্থ-ধোনি
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় হোটেলের একটি ঘরে টেবিলজুড়ে বিয়ারের ক্যান দেখা যায়। সেখানে ঋষভ পন্থ, মহেন্দ্র সিং ধোনি-সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
এক পর্যায়ে পন্থকে এক বয়স্ক ব্যক্তির পাশে সোফায় হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁকে ধোনিকে ডাকতেও দেখা যায়। এরপর ধোনি এগিয়ে এসে হাসিমুখে পন্থের সঙ্গে হাত মেলান।
ভিডিওতে ধোনির মুখে “জরা হুঁকো পিকে আতা হুঁ” কথাটিও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পন্থের শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে নানা মন্তব্য শুরু হয়। তবে ভিডিও দেখে কারও মদ্যপানের মাত্রা বা প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে পেশাদার ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবন, দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসমক্ষে উপস্থিতি—সবকিছুই যে সহজেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা ফের সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছে।






