নিউ মার্কেট হোটেল অগ্নিকাণ্ড: ‘ফায়ার লাইসেন্স দেখা মেয়রের দায়িত্ব নয়’, অগ্নিমিত্রার অভিযোগের জবাব ফিরহাদের

নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর ট্রেড লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়। বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন তুলেছিলেন, ওই বহুতলের হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের জবাবে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
ফিরহাদের দাবি, কোনও হোটেলের ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে কি না বা সেখানে ফায়ার অডিট হয়েছে কি না, তা মেয়র কিংবা কলকাতা পুরসভার দেখার বিষয় নয়। তাঁর কথায়, এই বিষয়গুলি দমকল বিভাগের আওতাধীন।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল নাম না করে আগের পুরমন্ত্রী ও মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, ওই বহুতলের হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স কে দিয়েছিল এবং সিইএসসি কীভাবে সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।
অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমার জায়গায় আগে যিনি ছিলেন, উনি কী করেছেন? ট্রেড লাইসেন্স দিল কে? সিইএসসি কী করে অনুমতি দিল? একটা এসির পারমিশন নিয়ে ১০টা চালানো হয়েছে।’
এর পরেই প্রাক্তন পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, সেটি একজন মেয়রের পক্ষে খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়। ফায়ার লাইসেন্স এবং অগ্নিনিরাপত্তা অডিটের বিষয়টিও দমকল বিভাগের দায়িত্ব বলে দাবি করেন তিনি।
ফিরহাদের বক্তব্য, ‘ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না, অডিট হয়েছিল না হয়নি, সেটা দেখার দায়িত্ব দমকলের। তারা বলতে পারবে। ট্রেড লাইসেন্স ছিল না কি না, সেটা একজন মেয়রের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়।’
অন্যদিকে, প্রাক্তন মেয়র ও পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশ করা হবে।
পুরমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাক্তন মেয়র এবং পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে কি না, সেই ব্যাপারে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশ করব।’
এর পরেই প্রশ্ন উঠছে, ফিরহাদ হাকিম কি পরোক্ষভাবে বিষয়টির দায় তৎকালীন দমকল দফতরের দিকে ঠেলে দিলেন? কারণ অভিযোগ উঠেছে, যে বহুতলে হোটেলটি চলছিল, সেটি কয়েক বছর আগে রেসিডেন্সিয়াল থেকে কমার্শিয়াল করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গেই তৎকালীন দমকল দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রসঙ্গত, সুজিত বসু পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলবন্দি রয়েছেন।
এর আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীও হোটেলটির অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দমকলের সদর দপ্তরের কাছেই থাকা ওই হোটেল বৈধ অনুমতি ছাড়াই চলছিল।
কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘এর আগের সরকারের পাপ আমাদের বহন করতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটছে। আমাদের নতুন সরকার এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
নিউ মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ডের পর এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে হোটেলটির ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নি অডিট, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ভবনের ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদন। একইসঙ্গে এতগুলি ছোট ঘর ও একাধিক হোটেল কীভাবে একই বহুতলে চলছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।






