নিউ মার্কেটের হোটেলের আগুনে মৃত বেড়ে ৯, উঠছে অব্যবস্থার অভিযোগ | Kolkata Hotel Fire

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের ভয়াবহ আগুনে চলে গেল ৯টি তরতাজা প্রাণ। এই দুর্ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অনেকে। ওই ‘মৃত্যুপুরী’তে ঢুকে দেখা গেল ছত্রে ছত্রে অব্যবস্থা। পাঁচতলা ওই বহুতলের প্রত্যেকটি তলাতেই বিরাজ করছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। প্রশাসন ও পুরসভার কোন কোন নিয়ম মানা হয়েছে, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। সবথেকে বড় কথা, ওই বহুতলে কোনও যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই ছিল না! ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।
নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ ও অব্যবস্থার চিত্র
অভিযোগ, ওই বহুতলে একাধিক হোটেল চলছিল এবং প্রত্যেকটি তলাতেই এক একটি হোটেল রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই বাড়িতে সেই অর্থে কোনো বড় ঘর নেই; ঘুপচি ঘুপচি পায়রার খোপের মতো ঘরেই মানুষজন এসে থাকতেন। প্রত্যেকটি তলাতেই চলত একাধিক এসি, অথচ কোনো নিয়মকানুন মানার বালাই ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে এই সমস্ত বেনিয়ম হয়েছে এবং টাকার বিনিময়ে ওই বাড়ির ভিতরে এভাবে ঘর উঠেছে। এমনকি কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানের কোনো নিয়মই মানা হয়নি!
মধ্যরাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বহুতলে আগুন লাগার পর নিমেষে তা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং হোটেলের ভিতর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সেই সময় আবাসিকরা ঘুমাচ্ছিলেন। আগুন লাগার পর আতঙ্ক ছড়ালেও অনেকেই বাইরে বেরনোর বিকল্প কোনো রাস্তাও খুঁজে পাননি। স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান, পরে দমকলকর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ চালান। ততক্ষণে অবশ্য চলে গিয়েছে একাধিক প্রাণ।

চিকিৎসার জন্য আসা বাংলাদেশিদের মর্মান্তিক পরিণতি
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকায় একাধিক হোটেল রয়েছে যেগুলোতে সাধারণত ভিনরাজ্য, বিশেষত বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য মানুষজন এসে থাকেন। এই হোটেলেও বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষ উঠেছিলেন। রাতের এই আগুনে ৮ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- হোটেলের ভিতর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় অনেকে বাঁচার জন্য শৌচালয়েও আশ্রয় নেন।
- প্রাণ বাঁচাতে এক আবাসিক উপর থেকে ঝাঁপ দিলে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
- হোটেলের ভিতর ঢোকা-বেরনোর জন্য একটাই মাত্র পথ ছিল, যা ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ।
- আগুন লাগার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের কাউকেই দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
রাজ্যের দমকলমন্ত্রী এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কীভাবে এখানে হোটেল করার অনুমতি মিলল এবং কীভাবে ট্রেড লাইসলেন্স দেওয়া হলো, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। এর জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।






