‘আরেকটু হলে মরেই যেতাম’: নিউ মার্কেটের ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা বেঁচে ফেরা আবাসিকদের

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত পৌনে দুটো। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তিলোত্তমা। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ঘুপচি হোটেলে অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন বহু আবাসিক। তাঁদের কেউ শহরে এসেছেন চিকিৎসার জন্য, কেউ বা অন্য কোনো কাজে। কিন্তু আচমকাই ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভেঙে যায় সকলের ঘুম। শুরু হয় আগুনের সঙ্গে এক অসম লড়াই! কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে এলেও সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা ভেবেই শিউরে উঠছেন মহম্মদ আমিরুল, ইজাজ আহমেদরা। তাঁদের সাফ কথা, “আরেকটু হলে মরেই যেতাম।”
বেঁচে ফেরা আবাসিকদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
মহম্মদ আমিরুল ও ইজাজ আহমেদরা জানান, তাঁরা চারতলার একটি ঘরে জানলা খোলা রেখেই ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়ায় ঘুম ভেঙে জানলার কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন চারপাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। আগুন মূলত তিনতলায় লাগলেও চারতলা ভরে গিয়েছিল শুধু ধোঁয়ায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বেরিয়ে পাশের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন এবং বাকিদের জাগানোর চেষ্টা করেন।
- হোটেলের কাউকে ডাকাডাকি করেও সেই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি।
- বিল্ডিংয়ের লিফট চালু থাকলেও তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়।
- সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করতেই দেখা যায়, সিঁড়িতেও দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।
- এক মুহূর্তের জন্য তাঁদের মনে হয়েছিল তাঁরা আর ঘরে ফিরতে পারবেন না। পরে দমকল ও পুলিশ কর্মীরা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
অন্য এক আবাসিকের কথায়, “মৃত্যুকে যেন খুব কাছ থেকে দেখলাম। প্রাণ বাঁচাতে সকলে নিজের মতো করে চেষ্টা করেছে। অনেকেই উপর থেকে ঝাঁপ দেবেন ভেবেছিলেন। আসলে ওই মুহূর্তে প্রাণ বাঁচানো ছাড়া আর কিছু ভাবার মতো অবস্থায় কেউ ছিল না।”
বেআইনি হোটেল ও পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ
আবাসিক ও স্থানীয়দের সকলের একটাই দাবি, এই ঘটনার উচ্চপর্যায় তদন্ত হোক এবং কলকাতার বুকে বেআইনিভাবে চলা এই সমস্ত হোটেলের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করুক সরকার। অন্যথায় এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে এবং বেঘোরে প্রাণ হারাবেন নিরীহ মানুষ। উল্লেখ্য, যে বিল্ডিংটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে একাধিক ছোট ছোট হোটেল রয়েছে, যার অধিকাংশ ঘরের মাপই মাত্র ৮ ফুট বাই ৮ ফুট। এদিন অগ্নিকাণ্ডের পর ওই বহুতল ভবন থেকে মোট ৮০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।






