মহিষাদলে ফুটবল কুড়োতে গিয়ে ঝিলে তলিয়ে মৃত্যু নবম শ্রেণির ছাত্রের

খেলার সময় ফুটবল কুড়োতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে রাজ গ্রাউন্ডের ঝিলে তলিয়ে মৃত্যু হল এক নবম শ্রেণির ছাত্রের। রাতভর তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ উদ্ধার হয় তার দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মৃত ছাত্রের নাম রোহন মাইতি (১৫)। চণ্ডীপুর এলাকায় তার বাড়ি। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল রোহন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিষাদল রাজ গ্রাউন্ডে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল অনুশীলন করছিল সে। খেলার সময় আচমকাই বলটি পাশের ঝিলে গিয়ে পড়ে। বলটি তুলে আনতে ঝিলে নামতেই বিপদ ঘটে। জলের মধ্যে তলিয়ে যায় রোহন।
বন্ধুরা এই ঘটনা চোখের সামনে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঝিলে জাল ফেলে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও রোহনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও প্রশাসনকে। উদ্ধারকাজে নামে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। পাশাপাশি ডুবুরি ও স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। সন্ধ্যার পরও উদ্ধারকাজ বন্ধ হয়নি। রাতভর ঝিলে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা।
অবশেষে শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ রোহনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অল্প বয়সি ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন বিডিও তাপস মণ্ডল, হলদিয়ার এসডিপিও, মহিষাদল থানার ওসি, বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা এবং পীযূষ কান্তি দাস। তাঁরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঘটনাটি নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। রোহনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার।
পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছে মাইতি পরিবার। যে মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিল রোহন, সেই মাঠের পাশের ঝিলই যে তার প্রাণ কেড়ে নেবে, তা ভাবতে পারেননি কেউই। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।






