Malda Viral News: সাপের ছোবল খেয়ে পাল্টা সাপকে কামড় যুবকের! টোটো-রিক্সা না পেয়ে বিষাক্ত সাপ হাতেই ৪ কিমি হেঁটে হাসপাতালে হাজির ফারুক মোমিন

source : sangbad pratidin
সাধারণত সাপে কামড়ালে মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কিন্তু মালদহের মোথাবাড়িতে যা ঘটল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন। সাপের ছোবল খেয়ে স্রেফ রাগের মাথায় সেই সাপটিকেই উলটে কামড়ে দিলেন এক যুবক! এখানেই শেষ নয়, এরপর সেই কামড়ানো সাপটিকে হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে, চার কিলোমিটার পথ হেঁটে সোজা হাজির হলেন হাসপাতালে। যুবকের এই ‘অকুতোভয়’ এবং অদ্ভুত কীর্তির ভিডিও ও ছবি এখন সোশাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।
মাঠে কাজ করার সময় ছোবল, রেগে সাপকেই কামড়!
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার মোথাবাড়ি থানার অন্তর্গত মানুটোলা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফারুক মোমিন নামে এক যুবক বাড়ির কাছেই মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকাই ঝোপের আড়াল থেকে একটি বিশালাকার সাপ বেরিয়ে এসে ফারুকের পায়ে বা হাতে সজোরে ছোবল মারে।
সাপের কামড় খাওয়ার সাথে সাথেই যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠার কথা ফারুকের। কিন্তু তিনি যন্ত্রণায় কাতরানোর পাশাপাশি মারাত্মক রেগে যান। সাপটি পালিয়ে যাওয়ার আগেই ফারুক বিদ্যুতের গতিতে সেটিকে ধরে ফেলেন এবং নিজের দাঁত দিয়ে সাপের গায়ে পাল্টা কামড় বসিয়ে দেন। যুবকের কামড়ে সাপটি নিস্তেজ হয়ে পড়লেও ফারুকের হাত থেকে সেটির রেহাই মেলেনি।
হাতে জ্যান্ত সাপ! ভয়ে গাড়ি তুলল না কেউ, ৪ কিমি হেঁটে হাসপাতাল
সাপ কামড়ানোর পর দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফারুক যে কাণ্ড ঘটালেন, তা দেখে গঙ্গারামপুর ও দুলালগঞ্জ এলাকার পথচলতি মানুষের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। ফারুক এক হাতে জ্যান্ত সাপটিকে ঝোলাতে ঝোলাতে এবং দোলাতে দোলাতে পিচ রাস্তা দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
রাস্তায় বহু টোটো, অটো এবং রিক্সা যাচ্ছিল। ফারুক চড়া ভাড়া দিয়ে গাড়ি বুক করতে চাইলেও, তাঁর হাতে ওমন বিশালাকার সাপ দেখে আতঙ্কে কোনো চালকই গাড়ি থামাতে বা তাঁকে তুলতে রাজি হননি। ফলস্বরূপ, বিষের যন্ত্রণা শরীর নিয়ে সাপ হাতেই টানা ৪ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে বাঙ্গিটোলা হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছান ফারুক। হাসপাতাল চত্বরে ফারুককে ওই অবস্থায় দেখে সেখানেও রোগী ও নার্সদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
[মালদহের ফারুক মোমিনের ‘স্নেক ডায়েরি’]
* স্থান: মানুটোলা, মোথাবাড়ি, মালদহ।
* সাপের পরিচয়: আনুমানিক দাঁড়াশ সাপ (Non-venomous Rat Snake)।
* যুবকের অ্যাকশন: সাপের ছোবলের জবাবে সাপকে পাল্টা কামড়।
* যাতায়াত সংকট: হাতে সাপ দেখে টোটো-অটোর প্রত্যাখ্যান, ৪ কিমি পায়ে হেঁটে হাসপাতাল যাত্রা।
আপাতত স্থিতিশীল যুবক, সাপটি সম্ভবত ‘দাঁড়াশ’
বাঙ্গিটোলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা ফারুকের সাহস দেখে তাজ্জব হয়ে যান। সেখানে যুবকের প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর বিষের প্রভাব এবং অ্যান্টি-ভেনম (AVS) প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে দ্রুত মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ফারুককে যে সাপটি কামড়েছিল, চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান সেটি ছিল একটি বড় দাঁড়াশ সাপ। এই সাপ সাধারণত বিষহীন হয়, যার ফলে পাল্টা কামড় খেলেও ফারুকের শরীরে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে তিনি চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
সাপ কামড়ালে ওঝা-গুণীনের কাছে না গিয়ে ফারুক যেভাবে আধুনিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, সাপে কামড়ালে এভাবে সাপকে কামড়ানো বা খালি হাতে সাপ ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। যদি সেটি দাঁড়াশ সাপ না হয়ে গোখরো বা কালাচ হতো, তবে নাড়াচাড়া করার কারণে বারবার ছোবল মারার ফলে যুবকের প্রাণহানি হতে পারত। আপাতত ফারুক সুস্থ আছেন এবং মালদহের এই ‘সাপ বনাম মানুষ’-এর লড়াইয়ের গল্প এখন জেলাজুড়ে মুখে মুখে ঘুরছে।






