Argentina vs Spain World Cup Final: ১৮ বছর আগে যাকে কোলে নিয়ে স্নান করিয়েছিলেন, ফাইনালে সেই ইয়ামালের মুখোমুখি মেসি! বিস্ফোরণ ফুটবলবিশ্বে

source : আনন্দবাজার
ফুটবল বিধাতা যে স্ক্রিপ্ট লেখেন, তা হলিউডের সেরা সিনেমাকেও হার মানায়। নিউ জার্সিতে বসতে চলেছে চলতি বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের আসর। ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই ফুটবল পরাশক্তি— আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তবে মাঠের ৯০ মিনিটের যুদ্ধের চেয়েও ফুটবলবিশ্বকে বেশি রোমাঞ্চিত করছে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ও ১৯ বছরের লামিনে ইয়ামালের এক মায়াবী অতীত। ২০০৭ সালের যে ছবিটিকে অনেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই ছবির দুই চরিত্রই আজ বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে যুযুধান।
“কী অবিশ্বাস্য না!”— ইয়ামালকে নিয়ে আবেগঘন মেসি
২০০৭ সালে বার্সেলোনার স্টেডিয়ামের কাছেই একটি উদ্বাস্তু কলোনিতে ইউনিসেফের সমাজসেবামূলক প্রকল্পে যোগ দিয়েছিলেন তরুণ মেসি। সেখানে এক অভিবাসী দম্পতির শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে হাসিমুখে স্নান করিয়ে দেওয়ার ফটোশুট করেছিলেন তিনি। সেইদিনের সেই ৬ মাসের শিশুই আজকের স্প্যানিশ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল।
চলতি বিশ্বকাপের মাঝেই দুজনে নিজেদের জন্মদিন পালন করেছেন। ফাইনালের আগে এই ছবি প্রসঙ্গে মেসি বলেন—
“ওই ছবিটা অসাধারণ। ইয়ামাল যখন শিশু ছিল, তখন ওর সঙ্গে আমার কয়েকটা ছবি রয়েছে। আমরা দু’জনেই এখন বিশ্বকাপ খেলছি। কী অবিশ্বাস্য না! ও এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ওর জন্য আমার সব সময় শুভকামনা থাকবে। ওর সাফল্য মানে তো বার্সেলোনারও সাফল্য।”
“ইয়ামাল যাতে সেরাটা না খেলতে পারে, তা নিশ্চিত করব”
প্রশংসা করলেও মাঠের লড়াইয়ে যে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ফুটবলের জাদুকর। বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা স্পেনের এই তরুণ তুর্কিকে বোতলবন্দী করতে বিশেষ ছক কষছে।
মেসি যোগ করেন, “ইয়ামাল এখন বিশ্ব পর্যায়ের তারকা। অসাধারণ খেলোয়াড়। ওর বয়স সবে ১৯, গোটা ফুটবলজীবন পড়ে রয়েছে। তবে এ বারই যাতে ও বিশ্বকাপ জিততে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব। শুধু ও নয়, স্পেনের গোটা দলটাই দুর্দান্ত। তবে আমাদের হাতেও কিছু অস্ত্র আছে।”
[মেসি বনাম ইয়ামাল: ফাইনালের পরিসংখ্যান ও ফ্যাক্টস]
* লিওনেল মেসি: বয়স ৩৯ বছর | বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা কিংবদন্তি | আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
* লামিনে ইয়ামাল: বয়স ১৯ বছর | লা মাসিয়া অ্যাকাডেমির বর্তমান রত্ন | স্পেনের প্রধান স্ট্রাইকার।
* ঐতিহাসিক ছবি: ২০০৭ সালের ইউনিসেফ চ্যারিটি ক্যালেন্ডার শুট (১৮ বছর পুরনো)।
* ফাইনালের ভেন্যু: নিউ জার্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
স্পেন শিবিরে এআই জল্পনা ও বার্সা ভক্তদের ধর্মসংকট
এই ছবি নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে স্পেনের ড্রেসিংরুমেও। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো হাসতে হাসতে বলেন, “প্রথম বার ছবিটা দেখে মনে হয়েছিল কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আসলে এমন কিছু যে বাস্তবে ঘটেছিল, ভাবাই যায় না! সর্বকালের অন্যতম সেরা দু’জন ফুটবলার এক ফ্রেমে। আশা করব, ইয়ামালও এক দিন মেসির পর্যায়ে পৌঁছোবে।”
এদিকে বার্সেলোনার সমর্থকদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। নিউ জার্সিতে ফাইনাল দেখতে আসা এক ৫৮ বছর বয়সী বার্সা ভক্ত আক্ষেপ করে বলেন, “আমার হৃদয় দু’টুকরো হয়ে যাচ্ছে। মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখলে যতটা খুশি হব, ইয়ামালের জন্য ততটাই খারাপ লাগবে। বার্সা ছেড়ে দেওয়ার পাঁচ বছর পরও মেসির মন যেমন বার্সেলোনাতেই পড়ে রয়েছে, আমাদেরও তেমনই অবস্থা। আমরা কারও হারই দেখতে চাই না।”
এক নজরে মেসি-ইয়ামাল ফাইনাল দ্বৈরথ:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি |
| ম্যাচ | আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন (বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০২৬)। |
| লাইমলাইট ছবি | ২০০৭ সালে মেসি কর্তৃক শিশু ইয়ামালকে স্নান করানোর ছবি। |
| বয়সের ব্যবধান | ঠিক ২০ বছরের ব্যবধান (৩৯ বছর বনাম ১৯ বছর)। |
| উভয়ের মিল | দুজনেই বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ (La Masia) অ্যাকাডেমির সৃষ্টি। |
| মেসির লক্ষ্য | ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে আরও একটি বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত করা। |
১৮ বছর আগে মেসি হয়তো জানতেনও না তাঁর হাতের ছোঁয়া পাওয়া ওই একরত্তি শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী রাজপুত্র হতে চলেছে। ইয়ামালের বাঁ পায়ের ড্রিবলিং আর মেসির চিরন্তন ফুটবল শৈলী— এই দুইয়ের লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবে, তা জানা যাবে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে ট্রফি যার হাতেই উঠুক না কেন, ২০০৭ সালের সেই চ্যারিটি ছবি ফুটবলের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।






