Municipality Recruitment Scam: পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে এবার মদন মিত্রের পরিবার! কামারহাটির তৃণমূল বিধায়কের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব ইডির

source : আনন্দবাজার
রাজ্যের শিক্ষানিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি সমান্তরালভাবে চলা পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির কড়া নজর পড়ল কামারহাটির জনপ্রিয় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের ওপর। তবে এবার সরাসরি মদন নয়, বরং ইডির স্ক্যানারে তাঁর গোটা পরিবার। আগামী সপ্তাহে মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে সিজিও কমপ্লেক্সে জেরার জন্য ডেকে পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
কেন মদনের পরিবারকে তলব করল ইডি?
ইডি সূত্রের খবর, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। এই টাকার উৎস ও গতিপথ (Money Trail) অনুসন্ধান করতে গিয়ে তদন্তকারীরা বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান।
অভিযোগ, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী এবং তাঁর দুই পুত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও নিয়োগ দুর্নীতির অংশ হিসেবে কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই বিষয়ে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা পেতেই আগামী সপ্তাহে তাঁদের সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের ব্যাঙ্কের নথিপত্র এবং আয়ের উৎস সংক্রান্ত কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে বলা হতে পারে।
মদনের বাড়িতে ইডি ও সিবিআইয়ের পূর্ববর্তী হানা
মদন মিত্রের পরিবারকে এই প্রথম তলব করা হলেও, তাঁর ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ নতুন কিছু নয়।
- ২০২৫ সালের অক্টোবর: পুরনিয়োগ মামলার তদন্তে প্রথমবার মদন মিত্রের ভবানীপুরের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই (CBI)। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
- ২০২৬ সালের জুন: ঠিক এক মাস আগে, জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইডির আধিকারিকরা একযোগে মদন মিত্রের ভবানীপুর ও কালীঘাটের ফ্ল্যাটে হানা দেন। একই দিনে দক্ষিণেশ্বর, সন্তোষপুর, জোকা এবং বেলেঘাটা-সহ শহরের মোট সাতটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে ইডি।
সুজিত বসুর গ্রেফতারি ও ২৫০ কোটির দুর্নীতি
ইতিমধ্যেই এই পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধাননগরের হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে সুপারিশ করে প্রায় ১৫০ জন অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন সুজিত বসু।
সুজিত এবং তাঁর পুত্র সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও জমা দিয়েছে ইডি। ইডি সূত্রের দাবি, চাকরি বিক্রির দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই কালো টাকা সুজিত ও তাঁর পুত্রের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। গোটা রাজ্য জুড়ে পুরনিয়োগ দুর্নীতির মোট অঙ্ক প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি। এবার সুজিত বসুর মতোই মদন মিত্রের পরিবারের ওপরও একই ধরণের জাল গুটিয়ে আনছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
[পুরনিয়োগ দুর্নীতি: ইডির তদন্তের ডায়েরি]
* দুর্নীতির মোট পরিমাণ: আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা।
* গ্রেফতারি: প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু (সুজিত ও পুত্র সমুদ্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ)।
* বেআইনি সুপারিশের সংখ্যা: দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জন।
* মদন মিত্রের পরিবারকে তলব: স্ত্রী ও দুই পুত্রকে আগামী সপ্তাহে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ।
সারদা ও রোজভ্যালি কাণ্ডে অতীতে জেল খাটার পর মদন মিত্র নতুন করে কোনো বিতর্কে জড়াতে চাননি। তবে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই শাসকদলের অন্দরে কম্পন বাড়ছে। সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এবার মদন মিত্রের পরিবারকে ইডির তলব রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কামারহাটির বিধায়ক বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা আগামী সপ্তাহে ইডির এই তলব এড়ান নাকি সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে হাজিরা দেন, এখন সেটাই দেখার।






