
- মৃতের সংখ্যা ৩৫৯ ছাড়াল: নেপালে প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৯-এ এবং নিখোঁজ এখনও অন্তত ১,৬০০ জন।
- আগামী ৭২ ঘণ্টায় নতুন বিপদ: চীন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট নতুন এক হিমবাহ হ্রদে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে; আগামী ৩ দিনে তা উপচে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বেজিং।
- ৩ নদীর তীরে খালি করার নির্দেশ: হিমবাহ হ্রদ ভাঙার আশঙ্কায় ভোটেকোশী, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল সরকার।
- ২৮৮ ভারতীয় নিখোঁজ: ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ এবং তিব্বত সীমান্তে আটকে রয়েছেন অন্তত ২০০ জন।
নতুন করে ধ্বংসলীলার মেঘ: বেজিংয়ের বিশেষ সতর্কতা
প্রথম হড়পা বানের ধাক্কা ও ধ্বংসস্তূপ সামলে ওঠার আগেই নেপালের আকাশে ফের নামল ঘোর অনিশ্চয়তা। চীনের জলসম্পদ মন্ত্রক কাঠমান্ডুকে সরকারিভাবে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি নতুন হিমবাহ হ্রদ (Glacial Lake) আকস্মিকভাবে বিপদসীমা ছাড়িয়ে উপচে পড়তে শুরু করেছে।
হ্রদটিতে ইতিমধ্যে ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে আরও ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সঞ্চিত হতে পারে। অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে নিমেষের মধ্যে লাখ লাখ ঘনমিটার জলরাশি ফের নেপালের উপত্যকা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

নদীর জলস্তর ও ঝুঁকির রূপরেখা
| নদী / অববাহিকা | বর্তমান সতর্কতা status | সম্ভাব্য প্রভাব ও এলাকা |
| ভোটেকোশী (Bhotekoshi) | রেড অ্যালার্ট | তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা মূল বানপ্রবাহে সরাসরি প্লাবনের আশঙ্কা। |
| ত্রিশূলী (Trishuli) | উচ্চ সতর্কতা | রসুয়া ও সংলগ্ন পাহাড়ি জনপদ ও সেতু সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ার চরম ঝুঁকি। |
| নারায়ণী (Narayani) | সতর্ক নজরদারি | সমতল ও নিম্নাঞ্চলের বিশাল লোকালয় জলমগ্ন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। |
[তিব্বত সীমান্তে নতুন হিমবাহ হ্রদ সৃষ্টি] ➔ [হ্রদে সঞ্চিত হচ্ছে ৫০ লক্ষ ঘনমিটার জল] ➔ [৭২ ঘণ্টার মধ্যে হ্রদের বাঁধ ভাঙার প্রবল ঝুঁকি] ➔ [ভোটেকোশী ও ত্রিশূলীতে ফের প্রলয়ঙ্করী বানের আশঙ্কা]

কূটনৈতিক তর্ক ও নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারে আতঙ্ক
একদিকে যখন মৃতের সংখ্যা ৩৫৯ ছাড়িয়ে দ্রুত বাড়ছে, তখন চীনের দায় অস্বীকার ও ভুয়ো খবর আখ্যা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতণ্ডা।
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ এবং সীমান্ত পার তিব্বত অঞ্চলে আরও ২০০ জন উদ্ধার পাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন। এই অবস্থায় নতুন করে আবার বন্যা নামলে উদ্ধারকাজে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






