‘যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ!’ নেপালে হড়পা বানের মাঝে পাহাড় বেয়ে অলৌকিক আত্মরক্ষা ২১ তীর্থযাত্রীর, চেন্নাই ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন উদ্ধারপ্রাপ্তরা

- আগ্নেয়গিরির মতো শব্দের পর হড়পা বান: নেপালে পাহাড়ি রাস্তায় বাসে করে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার সময় হঠাৎ আগ্নেয়গিরি ফাটার মতো আওয়াজে আছড়ে পড়ে প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বান।
- অলৌকিক আত্মরক্ষা: দু’টি বাসের মাঝে আটকে পড়া মাঝের বাসের তীর্থযাত্রীরা ছাদ থেকে কোনো রকমে পাহাড় বেয়ে উঠে বেঁচে যান; পাহাড়ি পুলিশ চৌকি উদ্ধার করে তাঁদের।
- চেন্নাই বিমানবন্দরে আতঙ্কের সুর: উদ্ধার পাওয়া ২১ জন তীর্থযাত্রী শুক্রবার চেন্নাই পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এই ঘটনাকে নিজেদের ‘পুনর্জন্ম’ বলে আখ্যা দেন।
- রাজ্য সরকারের উদ্ধার মিশন: নেপালে আটকে থাকা তামিলনাড়ুর প্রায় ৪০০ জন পুণ্যার্থীর মধ্যে ১৪০ জনকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে; উদ্ধার তদারকিতে দিল্লিতে ৪ মন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রলয়ঙ্করী বানের মুখোমুখি হওয়ার রোমহর্ষক বিবরণ
নেপালের দুর্গম পাহাড়ি পথে তীর্থযাত্রার সময়ে আচমকাই নেমে আসে মৃত্যুদূত। পর পর তিনটি বাস যাচ্ছিল, যার মধ্যে মাঝের বাসটিতে ছিলেন তামিলনাড়ুর পুণ্যার্থীরা। হঠাৎ বিকট শব্দে আগ্নেয়গিরি ফাটার মতো চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং সেকেন্ডের মধ্যে বয়ে আসে ধ্বংসাত্মক হড়পা বান।
বাসের ছাদে উঠে এবং চরম প্রতিকূলতার মধ্যে খাড়া পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে জীবন বাঁচান ২১ জন যাত্রী। উপরে থাকা পুলিশের চৌকি তাঁদের চরম বিপদ থেকে রক্ষা করে। চেন্নাই বিমানবন্দরে নেমে সেই ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে উদ্ধার হওয়া মহিলা সদস্য বিজয়ভুবনেশ্বরী ও কিরুবাথিরির।
উদ্ধার অভিযান ও সরকারি পদক্ষেপের পরিসংখ্যান
| বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
| নেপালে মোট আটকে থাকা পুণ্যার্থী | প্রায় ৪০০ জন (তামিলনাড়ুর বাসিন্দা) |
| এখনও পর্যন্ত উদ্ধারপ্রাপ্ত | ১৪০ জন (সুরক্ষিত স্থানে আনা হয়েছে) |
| ফিরে আসা যাত্রীর দল | ২১ জনের দল চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছান |
| সরকারের জরুরি পদক্ষেপ | দিল্লিতে ৪ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রতিনিধি দল গঠন ও নিখোঁজদের খোঁজে তৎপরতা |
[তিন বাসের কনভয়ে হঠাৎ বানের ধাক্কা] ➔ [বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে পাহাড় বেয়ে প্রাণপণ চড়াই] ➔ [পুলিশের চৌকিতে আশ্রয় ও অলৌকিক রক্ষা] ➔ [চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানো ও সরকারি উদ্ধার তৎপরতা]
জলবায়ু পরিবর্তন ও সরকারি উদ্ধার মিশন
উদ্ধার পাওয়া তীর্থযাত্রীরা প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবকে দায়ী করেছেন। এদিকে ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষামন্ত্রী রাজ মোহন এবং জলসম্পদ মন্ত্রী বুসি আনন্দ জানান, নেপালে আটকে থাকা বাকি সমস্ত নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র ও দিল্লি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে রাজ্য সরকার।






