৬০০ ছুঁইছাঁই মৃতের সংখ্যা, ২০১৫-র ভূকম্পনের স্মৃতি! এবার লেন্ডে নদীর বাঁধ ভেঙে ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সতর্ক করল চীন

- মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছাঁই: গত কয়েক দিনের প্রলয়ঙ্করী বানে নেপালে এ যাবৎকাল প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬০০ জন; নিখোঁজ হাজারের বেশি।
- লেন্ডে নদীর অববাহিকায় সতর্কবার্তা: চীন জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে লেন্ডে (Lhende) নদীর উজানে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের জলের রং পরিবর্তিত হয়ে গাঢ় হচ্ছে, যা পাড় কাটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত থাকার আশা: বেজিং স্পষ্ট করেছে, হ্রদটি ভাঙলেও নদীর সর্বাধিক প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটারের বেশি হবে না, তাই জলস্তর মাত্রাতিরিক্ত লাফানোর সম্ভাবনা কম।
- ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের মতো বড় আঘাত: হিমালয়ের এই ভয়াবহ বিপর্যয় ও অবকাঠামো ধ্বংস নেপালকে ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
লেন্ডে নদীর পরিস্থিতি: বেজিংয়ের কারিগরি পর্যবেক্ষণ
হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট কাদা ও শিলার বাঁধে লেন্ডে নদীর উজানে যে কৃত্রিম হ্রদটি (Barrier Lake) তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে চীনের জলসম্পদ দপ্তর। স্যাটেলাইট ও স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হ্রদের সঞ্চিত জলের রং দ্রুত গাঢ় হচ্ছে—যা ইঙ্গিত করে তলদেশের কাদা ও বাঁধের কাঠামোগত দুর্বলতা বাড়ছে।
তবে এতে অতিরিক্ত আতঙ্কের কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে চীন। বেজিংয়ের হাইড্রোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী:
- হ্রদটি ভেঙে গেলে সর্বোচ্চ প্রবাহ থাকবে ৫০০ ঘনমিটার/সেকেন্ড।
- ঢল নামলেও নিম্ন অববাহিকায় জলস্তর অতিরিক্ত বিপদসীমা ছাড়াবে না।
- তা সত্ত্বেও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নদী তীরের বাসিন্দাদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেপালের সাম্প্রতিকতম বড় দুটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তুলনা
| বিষয় / মাপকাঠি | ২০১৫ সালের ভূমিকম্প | ২০২৬ সালের হড়পা বান ও হিমবাহ ধস |
| বিপর্যয়ের প্রকৃতি | রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার টেকটোনিক ভূমিকম্প। | হিমবাহ ধস (Glacier Collapse) ও হড়পা বান। |
| প্রাণহানি | প্রায় ৯,০০০ মানুষের মৃত্যু। | এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু ও ব্যাপক নিখোঁজ। |
| ভৌগোলিক প্রভাব | কাঠমান্ডু উপত্যকা ও মধ্য নেপাল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। | রসুয়া, ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকা ধ্বংস। |
[হিমবাহ ধসে লেন্ডে নদীতে কাদার বাঁধ তৈরি] ➔ [উজানে কৃত্রিম হ্রদে জলের রং পরিবর্তন] ➔ [পাড় ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি] ➔ [প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত প্রবাহের আশা]
ধ্বংসস্তূপে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
১৯টি সেতু ভেঙে যাওয়া ও ৪০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ধসে যাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে ত্রাণ পৌঁছানোই এখন কাঠমান্ডুর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভীতি ও ক্ষতের মধ্য থেকে যেভাবে নেপাল ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের পরও সেই একই মনোবল নিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন।






