
- প্রাণহানি ও নিখোঁজ: তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। এছাড়া ১০৫ জন ভারতীয় ও ৩৭ জন এনআরআই সহ প্রায় ৪০০ জন কৈলাসযাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
- মোদীর ফোন ও আশ্বাস: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে (Balendra Shah) ফোন করে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত সব ধরনের মানবিক ও উদ্ধার কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
- ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল: রসুয়া জেলার তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় একাধিক ঘরবাড়ি, যানবাহন এবং সেতু জলের তোড়ে ভেসে গেছে।
- সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ: ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন মুগলিন এলাকা-সহ নিচু অববাহিকার অধিবাসীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিব্বত থেকে নেমে আসা বানে লন্ডভন্ড নেপাল
বুধবার সকালে চিনের তিব্বত থেকে উদ্ভূত ভয়াবহ জলধারা সীমান্ত পেরিয়ে নেপালের রসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, গাড়ি এবং আস্ত সেতু।
নেপাল বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রসুয়ায় সরাসরি কোনো মেঘভাঙা বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও তিব্বতে অতিবৃষ্টি, বরফধস বা হিমবাহের জলাধার ভাঙা (GLOF)-র ফলেই এই প্লাবন সৃষ্টি হয়েছে। চিনের ‘সিনহুয়া’ সংবাদ সংস্থার মতে, তিব্বতের গাইরং প্রদেশও এই বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয় কৈলাসযাত্রী: সহায়তায় কেন্দ্র
নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, বন্যাকবলিত রসুয়া সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন বা নিখোঁজ। এর মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা মূলত তিব্বতে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
| নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্তের বিবরণ | সংখ্যা / তথ্য |
| মোট নিখোঁজ পর্যটক | ৩৮৪ জন (২৮১ জন বিদেশি, ৯৩ জন নেপালি) |
| নিখোঁজ ভারতীয় ও প্রবাসী ভারতীয় | ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন এনআরআই |
| নিখোঁজ সুরক্ষা কর্মী | ২৬ জন নেপাল পুলিশ ও ৭ জন আধাসেনা জওয়ান |
| ভারতীয় হেল্পলাইন নম্বর | +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭, +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০ |
[তিব্বত থেকে জলস্রোত ভোটেকোশী নদীতে প্রবেশ] ➔ [রসুয়ার তিমুর-স্যাফ্রুবেসিতে ধ্বংসলীলা] ➔ [১০৫ ভারতীয় সহ ৪০০ কৈলাসযাত্রী নিখোঁজ] ➔ [মোদী-বলেন শাহ আলোচনা ও ভারতীয় বায়ুসেনা সতর্ক]
ত্রাণে নামল নেপালের প্রশাসন, পাশে ভারত
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠক ডেকে সেনাবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, স্কাউট ও রেড ক্রসকে দ্রুত উদ্ধারে নামিয়েছেন। উদ্ধারকাজ চালাতে একাধিক হেলিকপটার মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-হ্যান্ডেলে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে এই কঠিন সময়ে ভারত সরকার ও দেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে নেপালের পাশে রয়েছে। ভারতের জাতীয় বিপর্যয় সাড়াদানকারী দল (NDRF) ও বায়ুসেনার বিমান জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।






