২৪ ঘণ্টায় ছিল না মেঘভাঙা বৃষ্টি! নেপালে ভয়ংকর হড়পা বানের আসল কারণ নিয়ে কী বলছেন ভূবিজ্ঞানীরা?

- বৃষ্টির অভাব কিন্তু প্লাবন: গত ২৪ ঘণ্টায় রসুয়া বা উত্তর নেপালে কোনো মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়নি, তবুও ভেসেছে একাধিক গ্রাম।
- লেন্ডে নদীতে বিপর্যয়: ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন’-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহের তুষারধসের কারণে লেন্ডে খোলা নদী অবরুদ্ধ হয়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে।
- তিব্বতের ভারী বৃষ্টি ও হিমহ্রদ: স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী তিব্বত অংশে অতিভারী বৃষ্টি এবং বরফ ও পাথরের স্তূপ জমে তৈরি হওয়া অস্থায়ী হ্রদ ভেঙে যাওয়াই এই প্লাবনের প্রধান কারণ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কবার্তা: ১৪ মাসের মধ্যে লেন্ডে নদীতে পরপর দুবার বন্যায় ফুলে-ফেঁপে ওঠার ঘটনাকে হিমালয়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এক মারাত্মক সংকেত বলে মনে করছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা।
কেন এই হড়পা বান? বিশেষজ্ঞদের মতামত
বুধবার সকালে যখন কপ্টার থেকেও বানভাসিদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না, তখন প্রশ্ন ওঠে—বৃষ্টি ছাড়া কীভাবে সৃষ্টি হলো এত বড় দুর্যোগ? ভূবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই বিপর্যয়ের মূল অনুঘটকগুলো হলো:
- তুষারধস ও নদীর গতিপথ রুদ্ধ: নদীর উপরিভাগে বিশাল আকারের বরফ ও পাথরের ধস নেমে লেন্ডে খোলা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে যায়।
- অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি ও বাঁধ ভাঙা (GLOF): আটকে থাকা জলের চাপে পাহাড়ি খাঁজে একটি অস্থায়ী জলাধারের (Glacial Lake Outburst) সৃষ্টি হয়, যা জলের চরম চাপে হঠাৎ ফেটে নিচে নেমে আসে।
- তিব্বতের অতিভারী বৃষ্টি: উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে নেপালে বৃষ্টি না হলেও সীমান্ত পার তিব্বত অংশে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল, যার জল অতি দ্রুত জমা হয়ে ধ্বংসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও পরিসংখ্যান
| বিশেষজ্ঞ / সংস্থা | মূল বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ |
| ICIMOD (কাঠমাণ্ডু) | হিমবাহ ধসের (Glacier Avalanche) ফলেই লেন্ডে নদীতে এই অস্বাভাবিক জলস্ফীতি ঘটেছে। |
| শাশ্বত সান্যাল (জলবায়ু বিশেষজ্ঞ) | ১৪ মাসে পরপর ২ বার লেন্ডে নদী প্লাবিত হওয়া হিমালয়ের উষ্ণায়নের সরাসরি বিপজ্জনক সঙ্কেত। |
| অধ্যাপক মধুসূদন কর্মকার | স্যাটেলাইট চিত্রে তিব্বতের অতিভারী বৃষ্টি ধরা পড়েছে; তবে এতে ভূমিকম্পের কোনো প্রভাব নেই। |
| দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট | তুষারধসের ফলে তৈরি হওয়া অস্থায়ী হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল হু-হু করে নেপালের রসুয়ায় প্রবেশ করেছে। |
[তিব্বতে অতিভারী বৃষ্টি ও তুষারধস] ➔ [লেন্ডে নদীতে পাথর-বরফের কৃত্রিম বাঁধ সৃষ্টি] ➔ [অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি] ➔ [হঠাৎ বাঁধ ভেঙে হড়পা বানের তাণ্ডব]
হিমালয়ের উষ্ণায়ন ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের তাপমাত্রা বিপজ্জনক গতিতে বাড়ছে। এর ফলে সুউচ্চ হিমবাহগুলি দ্রুত গলছে এবং তুষারধসের প্রবণতা বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নেপালি ও ভারতীয় আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত দল বর্তমানে তিব্বতের কেরুং ও সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলে ড্রোন ও উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে নদীখাতের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে নিচে আর কোনো নতুন বাঁধ সৃষ্টি হয়ে পুনরায় বিপদ না ডেকে আনে।






