হাফিজ সইদকে শেষ সুযোগ ভারতের! পহেলগাম কাণ্ডে এবার লাহোরে পাঠানো হচ্ছে অন্তিম সমন, না এলেই ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল’

কেন শেষ সমন পাঠাচ্ছে নয়াদিল্লি?
জম্মুর বিশেষ এনআইএ (NIA) আদালত আগেই লস্কর-ই-তৈবা (LeT) প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। পাকিস্তান দাবি করে আসছে, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে সইদ সে দেশের জেলে বন্দি। কিন্তু ভারতের অভিযোগ, ইসলামাবাদ বাস্তবে তাকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় নিরাপদে রেখেছে।
আইন মেনে বিচারপ্রক্রিয়ার সমস্ত ধাপ খাতায়কলমে বজায় রাখতে চায় ভারত। কূটনৈতিক পথে লাহোরে সমন পাঠিয়ে ভারত প্রমাণ করতে চাইছে যে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পুরো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
[কূটনৈতিক মাধ্যমে লাহোরে সমন প্রেরণ] ➔ [আদালতে হাজিরা না দেওয়া/পাকিস্তানের অস্বীকার] ➔ [ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল শুরু] ➔ [অনুপস্থিতিতে সাজা ঘোষণা]
কী এই ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল’?
অভিযুক্ত সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও ভারতের নতুন ও সংশোধিত আইনি কাঠামোয় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর স্পষ্ট সংস্থান রয়েছে।
| বিচারপ্রক্রিয়ার দিক | ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল’-এর কার্যকারিতা |
| নিরপেক্ষ বিচার | অভিযুক্ত না থাকলেও আদালত তার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে যাতে প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ থাকে। |
| সাজা ঘোষণা | সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে সাজা ঘোষণা করে রাখবে। |
| ভবিষ্যৎ প্রয়োগ | অভিযুক্তকে ভবিষ্যতে ভারতে গ্রেপ্তার করা হলে বা হস্তান্তর করা হলে, নতুন করে বিচার ছাড়াই সরাসরি ঘোষিত সাজা কার্যকর হবে। |
মুম্বই ২৬/১১ হামলার মামলাতেও একই ছক
পহেলগাম হামলার পাশাপাশি ২০০৮ সালের নভেম্বরের ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদসহ অন্যান্য অনুপস্থিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া ট্রায়াল’ শুরু করার ভাবনাচিন্তা করছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের টালবাহানা বা নিষ্ক্রিয়তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদকে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে ভারতের এই কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
হাফিজ সইদের বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ভারত সমস্ত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি পথ খোলা রাখছে। পাকিস্তানি ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আইনি লড়াইয়ে এটি একটি বড় মাইলফলক হতে চলেছে।






