পাক চর সন্দেহে উত্তরবঙ্গে গ্রেপ্তার ৩, বাংলাদেশি রুটে পাকিস্তানে ভারতীয় সিম ও জালনোট পাচারের পর্দাফাঁস করল বেঙ্গল এসটিএফ

উত্তরবঙ্গে পাক গুপ্তচর চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে বড়সড় সাফল্য পেল বেঙ্গল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Bengal STF)। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের সাথে যৌথ অভিযান চালিয়ে পাক চর সন্দেহে মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর এবং কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে এদের পাকড়াও করা হয়। এই ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়; প্রতিবেশীরা তো বটেই, এমনকি ধৃতদের পরিবারের সদস্যরাও স্তম্ভিত।
গোয়ালপোখর থেকে সফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার
শুক্রবার রাতে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থানা এলাকার পাঞ্জীপাড়া ফাঁড়ির পোখারিয়া পঞ্চায়েতের দেওনা গ্রামে শ্বশুড়বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ ও এসটিএফের যৌথ দল। সেখান থেকেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সফিকুল ইসলামকে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল বিহারের কিষানগঞ্জে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। সেখান থেকে পালিয়ে এসে সে গোয়ালপোখরে শ্বশুড়বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৬ সালে বিয়ে হওয়া সফিকুলের কাজের ধরণ নিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়ি কিছুই স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি। ইসলামপুর পুলিশ সুপার রাকেশ সিং জানান, শুক্রবার রাতেই অভিযুক্তকে এসটিএফ হেফাজতে নিয়ে যায়।
[ধৃত ৩ জনের বিবরণ]
১. সফিকুল ইসলাম - দেওনা গ্রাম, পোখারিয়া, গোয়ালপোখর (উত্তর দিনাজপুর)
২. রশিদুল হক - কুর্শাহাট/সাহেবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা (কোচবিহার)
৩. নাসিরুদ্দিন আলি - সাহেবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা (কোচবিহার)
কোচবিহারে হানা ও পরিবারের দাবি
অন্যদিকে, কোচবিহারের সীমান্ত সংলগ্ন কুর্শাহাট ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় রশিদুল হক ও নাসিরুদ্দিন আলিকে।
বৃহস্পতিবার কুর্শাহাট বাজারে বাইক সারাই করতে গেলে রশিদুলকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি মোবাইল ফোন (যার মধ্যে ১টি কিপ্যাড) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রশিদুলের স্ত্রী নুরবানু খাতুনের দাবি, তাঁর স্বামী ব্যাঙ্গালোরে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন এবং বছর খানেক আগে বাড়ি ফিরেছেন। পরিবারের দাবি, এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ঘটনার সাথে রশিদুল কোনোভাবেই যুক্ত থাকতে পারে না।
সিম পাচার ও জালনোট র্যাকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য
এসটিএফ সূত্রে খবর, পাক চর সন্দেহে মোট ৭ জনের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে ৩ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা গেছে এবং বাকি ৪ জনের খোঁজে বিভিন্ন গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
অভিযোগের মূল ভিত্তি:
- সিমকার্ড পাচার: অভিযুক্তেরা ভারতীয় মোবাইল টেলিকম কোম্পানির ভুয়া সিমকার্ড সংগ্রহ করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠাত। বাংলাদেশ হয়ে সেই অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড সরাসরি পাকিস্তানে পৌঁছে যেত।
- জালনোট ছড়ানো: আন্তর্জাতিক জালনোট (FICN) চক্রের সাথেও ধৃতেরা যুক্ত এবং ভারতে জালনোট ছড়াতে সরাসরি কাজ করছিল।
এক নজরে মামলার বিবরণ:
| বিভাগ | তথ্য / বিবরণ |
| তদন্তকারী সংস্থা | বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF) ও জেলা পুলিশ |
| ধৃতদের সংখ্যা | ৩ জন (মোট সন্দেহভাজন ৭ জন) |
| গ্রেপ্তারের স্থান | গোয়ালপোখর (উত্তর দিনাজপুর) ও সাহেবগঞ্জ (কোচবিহার) |
| প্রধান অভিযোগ | বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে ভারতীয় সিম পাচার ও জালনোট র্যাকেট |
| আদালতের রায় | দিনহাটা মহকুমা আদালত কর্তৃক ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত (Police Custody) |
সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গ এলাকাকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক গুপ্তচর বা অপরাধ চক্র যেভাবে শেকড় ছড়ানোর চেষ্টা করছে, এসটিএফের এই দ্রুত অভিযানে তাতে বড় ধাক্কা লাগল। বাকি চার ফেরার সন্দেহভাজনকে ধরতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ১৪ দিনের রিমান্ডে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে আন্তর্জাতিক এই নেটওয়ার্কের মূল মাথাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।






