স্কুলে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক, মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমস্ত বৈষম্য দূর করে এক অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে বিদ্যাভারতীর বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলগুলির প্রার্থনা সভায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যে আলাদা কোনও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রার্থনা সভায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, প্রথমে কয়েকজনের আপত্তি ছিল, কেন পুরো গান গাইতে হবে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি সাহায্য নেওয়া এবং দেওয়ার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা সচিবের পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, অনেকে প্রার্থনার সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও তাঁদের ঠোঁট নড়ছে না। এরপর তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, শুধু দাঁড়িয়ে থাকলেই হবে না, গান গাওয়ার সময় ঠোঁটও নাড়াতে হবে।
নিজের সরকারের আদর্শের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রবাদী ভাবধারাকে সামনে রেখেই সরকার এগোচ্ছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়, বিদ্যাসাগর এবং স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এরপরই রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “দেখতে থাকুন, ধীরে ধীরে আলাদা করে কোনও মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম থাকবে না।” পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর দাবি, সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকবে এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে দেখার ব্যবস্থাও থাকবে না।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে আগামী এক বছরের মধ্যে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত রাজ্যে বিদ্যাভারতীর বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বক্তব্যে বাম জমানা ও তৃণমূল আমলের শিক্ষানীতিরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সিঙুরে টাটাকে সরানোর বিষয়টি সিলেবাসে জায়গা পেলেও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস যথাযথভাবে রাখা হয়নি।
চাকরি দুর্নীতি প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চাকরি চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম পাঠ্যক্রমে পাওয়া গেলেও আত্মবলিদান দেওয়া ক্ষুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম খুঁজতে গেলে অনেক পাতা উল্টাতে হয়।
কলকাতার একটি স্কুলে এক খুদে পড়ুয়ার কপাল থেকে চন্দনের টিপ মুছে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কে টিকা রাখবেন, কে টিকি রাখবেন কিংবা কে গলায় তুলসী পরবেন—সেটি তাঁর নিজস্ব ঐতিহ্যের বিষয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাভারতীর যতীন্দ্র কুমার শর্মা, রবীন্দ্র চামারিয়া-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। শিল্পজগতের একাধিক ব্যক্তিও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
শিক্ষাব্যবস্থায় এক অভিন্ন কাঠামো, স্কুলে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।






