Sheikh Hasina Bangladesh Return: ‘দেশে পা রাখলেই সোজা জেলযাত্রা!’ আত্মসমর্পণ ও জামিনের কোনো সুযোগ নেই শেখ হাসিনার, স্পষ্ট বার্তা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রোসিকিউটরের

source : সংবাদ প্রতিদিন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি সংঘাত এবার চরমে। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) দ্বারা ফাঁসির সাজা পাওয়া আওয়ামী লীগ নেত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী ও রাজনৈতিক প্রশাসন তাঁকে সেই রাজনৈতিক বা আইনি ‘সুযোগ’ দিতে বিন্দুমাত্র রাজি নয়। ট্রাইব্যুনালের প্রধান আইনজীবী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনার জন্য আদালতের দরজা নয়, বরং জেলের কোঠরি প্রস্তুত রয়েছে।
‘দণ্ডিত’ হিসেবেই আসতে হবে, আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, তিনি ফাঁসির পরোয়ানাকে ভয় পান না এবং দ্রুতই দেশে ফিরে আইনি লড়াই লড়বেন। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রোসিকিউটর মহম্মদ আমিনুল ইসলাম।
তিনি শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন—
“শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের আশ্রয়ে নির্বাসনে আছেন। ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফিরে স্বাধীনভাবে তাঁর আত্মসমর্পণ করার কোনো আইনি সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই। তিনি যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আদালত দ্বারা দণ্ডিত, তাই নির্বাসন থেকে তাঁকে ‘দণ্ডিত অপরাধী’ হিসেবেই গ্রেপ্তার হয়ে আসতে হবে। ভারত সরকার তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার পর তাঁর সোজা জেলযাত্রা হবে।”
জামিন ও আপিলের অধিকার হারিয়েছেন শেখ হাসিনা?
চিফ প্রোসিকিউটর মহম্মদ আমিনুল ইসলাম আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি পয়েন্ট সামনে এনেছেন। আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে দণ্ডিত আসামিকে আত্মসমর্পণ করে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় আইনিভাবে আপিলের সাধারণ অধিকার হারিয়েছেন।
একই সাথে তাঁর জামিন পাওয়ার সম্ভাবনাও সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে প্রধান সরকারি আইনজীবী জানান, বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নজির নেই। ফলে হাসিনার ক্ষেত্রেও বিশেষ কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সাথে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশে থাকা শেখ হাসিনার সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ইতিমধ্যেই সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে।
[শেখ হাসিনার বর্তমান আইনি জটিলতা]
* বর্তমান স্থিতি: ভারতের নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে চিকিৎসাধীন/নির্বাসিত।
* আইনি তকমা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
* প্রত্যাবর্তন মাধ্যম: দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি বা পুশব্যাক।
* আইনি নিষেধাজ্ঞা: জামিন অযোগ্য, সরাসরি জেল হেফাজত, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত।
প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি
এদিকে বাংলাদেশের বর্তমান তারেক রহমান সরকার শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে দিল্লির ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) মেনে হাসিনাকে দ্রুত ঢাকা স্কোয়াডে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়েছে।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি একসুরে দাবি তুলেছে যে, হাসিনা দেশে ফিরলেই যেন আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মেনে অবিলম্বে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
এক নজরে শেখ হাসিনার আইনি ও রাজনৈতিক স্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের খতিয়ান |
| প্রধান আইনি কর্মকর্তা | মহম্মদ আমিনুল ইসলাম (চিফ প্রোসিকিউটর, ICT)। |
| শেখ হাসিনার সাজা | ২০২৪-এর গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি)। |
| ফেরানোর কূটনৈতিক পথ | ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আইনি হস্তান্তর। |
| প্রত্যাবর্তনের পর পদক্ষেপ | বিমানবন্দর বা সীমান্ত থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ। |
| সম্পত্তির অবস্থান | বাংলাদেশের সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বাজেয়াপ্ত। |
শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রোসিকিউটরের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাংলাদেশে ফেরার পথ মোটেও মসৃণ হবে না। কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা রাজকীয় আত্মসমর্পণের সুযোগ তিনি পাবেন না; বরং একজন সাধারণ কয়েদির মতোই তাঁকে প্রিজন ভ্যানে চেপে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ মেনে কবে এবং কীভাবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়।






