সিউড়ির পৈতৃক বাড়ি ছাড়িয়ে ৪ তলা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ! পাথরসম্রাট টুলু মণ্ডলের বাড়িতে বিশাল পুলিইশি হানা, রাজকীয় সাজ দেখে তাজ্জব তদন্তকারীরা

যেকোনো ফাইভ স্টার বা ফোর স্টার বিলাসবহুল রিসর্টকেও নিমেষে টেক্কা দেবে সিউড়ির সুভাষপল্লির এই ৪ তলা অট্টালিকা। বীরভূমের বালি ও পাথর ব্যবসার ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের সেই বিলাসবহুল আস্তানায় আচমকাই হানা দিল জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। আর দরজার ভেতর পা রাখতেই অন্দরমহলের জাঁকজমক দেখে তাজ্জব হয়ে গেলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।
লিফট থেকে সিনেমা হল— রিসর্টের মতো রাজপ্রাসাদ!
রাস্তার পাশে বিশালাকার দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই নজরে আসে সুন্দরভাবে সাজানো সবুজ লন। সারিবদ্ধ ছোট ছোট ঝাউগাছ আর দেশি-বিদেশি বাহারি গাছে মোড়া সেই বাগান। চারতলা ওই রাজপ্রাসাদোপম বাড়ির ভেতরের দৃশ্য আরও চোখ ধাঁধানো—
- লিফট ও সুইমিং পুল: চারতলা ভবনের একতল থেকে ওপরতলায় যাওয়ার জন্য বসানো রয়েছে আধুনিক লিফট। ঘরের ভেতর রয়েছে বিলাসবহুল সুইমিং পুল।
- নিজস্ব থিয়েটার ও জিম: অবসর বিনোদনের জন্য ঘরের ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে নিজস্ব হোম থিয়েটার হাউস। শারীরিক কসরতের জন্য রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত প্রাইভেট জিম।
- মার্বেল ও আলোর খেলা: পুরো মেঝেজুড়ে দামি মার্বেল এবং সুসজ্জিত বাহারি লাইটিং।
- গ্যারেজ ও সম্পত্তি: বাড়িতে রয়েছে ২টি গ্যারেজ এবং তাতে রাখা ২টি দামি বিলাসবহুল গাড়ি। এছাড়াও সিউড়ির পৈতৃক বাড়ি সোঁৎশাল এবং মহম্মদবাজারে রয়েছে টুলুর বিশাল ট্রাক ও লরি পার্কিং লট।
[টুলু মণ্ডলের প্রাসাদোপম বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো]
* ৪ তলা অট্টালিকা ও নিজস্ব লিফট সুবিধা।
* ইনডোর সুইমিং পুল ও প্রাইভেট থিয়েটার হাউস।
* বিলাসবহুল মেটেরিয়ালে সুসজ্জিত নিজস্ব জিম।
* ২টি গ্যারেজে একাধিক দামি গাড়ি।
মিনার মণ্ডলের টাকার উৎস খুঁজতে পুলিশের মেগা রেড
বৃহস্পতিবার দুপুরে বীরভূম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল টুলুর এই একাধিক আস্তানায় একযোগে অভিযান চালায়। মূলত মিনার মণ্ডলের আর্থিক লেনদেন ও টাকার উৎসের সূত্র ধরে তল্লাশি চালাতে সিউড়ির সুভাষপল্লির বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশ।
অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন—
- ডিএসপি (ডিইবি) সুরজিৎ মণ্ডল
- ডিএসপি (সদর) সৌরভ ভট্টাচার্য
- সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়
তাঁদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর একঝাঁক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও উপস্থিত রয়েছেন।
বাড়িতে স্বর্ণকার নিয়ে তল্লাশি
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিলাসবহুল বাড়ির ভেতর বা গোপন লকারে প্রচুর পরিমাণ সোনা ও নগদ টাকা লুকানো থাকতে পারে। সেই কারণে অলংকার বা সোনার সঠিক ওজন ও মান যাচাই করতে এক স্বর্ণকারকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেছেন তদন্তকারীরা।
যদিও শেষ পাওয়া খবরে, তল্লাশি অভিযান চলাকালীন এখনও পর্যন্ত নগদ টাকা বা সোনা উদ্ধারের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি পুলিশ। তল্লাশি প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত।
এক নজরে অভিযান ও অভিযুক্তের বিবরণ:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| অভিযুক্তের নাম | টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিন |
| ব্যবসা | পাথর ও বালি ব্যবসা |
| অভিযানের স্থান | সুভাষপল্লি (সিউড়ি), সোঁৎশাল ও মহম্মদবাজার |
| অভিযানের কারণ | মিনার মণ্ডলের টাকার উৎস ও বেআইনি সম্পত্তির হদিস |
| বিশেষ পরিকাঠামো | লিফট, সুইমিং পুল, জিম, প্রাইভেট সিনেমা হল |
বীরভূমের পাথর ও বালি ব্যবসার বেআইনি সাম্রাজ্যের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতেই শুরু হয়েছে এই জোরদার পুলিশি অভিযান। সিউড়ির এই ‘রাজপ্রাসাদ’ থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো অবৈধ সোনা বা হিসাব বহির্ভূত নথি উদ্ধার হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতি ও জেলা প্রশাসনের।






