তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ লজে অগ্নিকাণ্ড, মালিকের ছেলে গ্রেপ্তার; ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্টের নির্দে

তারাপীঠের ‘জতুগৃহ’ হয়ে ওঠা ‘বিদেশিনী’ লজের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকের ছেলে কল্যাণ আশিস পালকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাঁকে আটক করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। টানা জেরায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর সোমবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।
ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে, লজের মালিক তাপস পাল এখনও পলাতক। তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে।
ঘটনার পর ‘বিদেশিনী’ লজের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি নিজেদের মতো করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশও। লজে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু ওই লজ নয়, তারাপীঠের অন্যান্য আবাসনগুলির বৈদ্যুতিক এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক তার, ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, মিটার, আর্থিং এবং অনুমোদিত লোডের মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, হাইড্র্যান্ট, পাম্প, জলের মজুত, হোস রিল, ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি আলো এবং ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে অতিথিদের বেরিয়ে যাওয়ার পথ, সিঁড়ি এবং জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থাও পরিদর্শন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আবাসনগুলির ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করবে প্রশাসন।
সূত্রের খবর, এই গোটা পরিদর্শন ও তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে কৌশিকী অমাবস্যার আগেই কয়েকটি হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনও কোনও আবাসন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, ডিআইজি বর্ধমান রেঞ্জ শ্রীহরি পাণ্ডে, জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ ভুন্দেশ-সহ জেলা পুলিশ, প্রশাসন এবং দমকলের শীর্ষ আধিকারিকরা।
জেলা পুলিশ সুপার বিদীত রাজ ভুন্দেশ বলেন, “ঘটনাস্থল সিল করা হয়েছে। হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কিনা, খতিয়ে দেখার জন্য দমকলের আধিকারিকরা রয়েছেন। ফরেন্সিক বিশেজ্ঞরাও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হোটেল মালিকের ছেলে গ্রেপ্তার। ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর যা যা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা আইন মোতাবেক নেওয়া হবে। পুলিশ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
এদিকে, সোমবার রাতে ময়নাতদন্তের পর রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ থেকে মেঘালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছে তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে মৃত মেঘালয়ের পাঁচ বাসিন্দার দেহ। হাসপাতালে তাঁদের শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এবং রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। ফুলের স্তবক দিয়ে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা।
তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এখন তদন্তের পাশাপাশি গোটা এলাকার হোটেল ও আবাসনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ‘বিদেশিনী’ লজে কীভাবে আগুন লাগল এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গুরুতর গাফিলতি ছিল কি না, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই তার আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।






