জর্ডনে ড্রোন-মিসাইল হামলার বদলা! তেহরান ও কেশম দ্বীপে আমেরিকার মিসাইল হামলা, চরম উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

বিগত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামান্য শিথিলতা বা বিরতি দেখা গেলেও, শেষ রক্ষা হলো না। জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনার পর এক লাফে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরো পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঙ্কার ও নির্দেশের পরই বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানে ফের জোরালো সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকান সশস্ত্র বাহিনী।
জর্ডন হামলার বদলা: গর্জে উঠল মার্কিন সেনার সেন্টকম
গত মঙ্গলবার জর্ডনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ করে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত (Intercept) করে আমেরিকা, তবে এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের সেনাসদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই ইরানে এই দীর্ঘ মেয়াদী ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
[মার্কিন সেনার পালটা হামলার টাইমলাইন]
* মঙ্গলবার: জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা।
* বুধবার: হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের তরফে ইরানকে 'কঠোর আঘাত' হানার প্রকাশ্য ঘোষণা।
* বৃহস্পতিবার ভোর: তেহরান, কেশম দ্বীপ ও বুশেহরে মার্কিন সেনার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা।
বিস্ফোরণে কাঁপল তেহরান ও স্ট্র্যাটেজিক কেশম দ্বীপ
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলজুড়ে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়।
- কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) অন্তত তিনটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ মেলে।
- জনবহুল এলাকা ও সেনাসাঁজোয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সুত্রে খবর।
- ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামো ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর কাছাকাছি থাকা বুশেহর (Bushehr) শহরও এই হামলায় মারাত্মকভাবে কেঁপে ওঠে।
যদিও এই মুহূর্তে মোট হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়, তবে বহু মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
“ধোলাই দেওয়া হবে!”— ট্রাম্পের চাঁচাছোলা হুঙ্কার
সাময়িক বিরতির পর সামরিক অভিযান আবার সচল করা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, আমেরিকা চুপ করে থাকবে না। স্বভাবসিদ্ধ আগ্রাসী ভঙ্গিতে তিনি বলেন—
“ওরা ভেবেছিল পার পেয়ে যাবে! এবার আমাদের আঘাত হানার পালা। আমরা ওদের ভালো করে ধোলাই দেব এবং পিটিয়ে ছাতু বানিয়ে ছাড়ব। এবার এমন আঘাত করা হবে যা ওরা কল্পনাও করতে পারবে না।”
ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের একাধিক সেনাঘাঁটি, রিভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) কন্ট্রোল সেন্টার এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক সুনির্দিষ্ট বাঙ্কার-বাস্টিং মিসাইল ছোড়ে মার্কিন ফাইটার জেট ও যুদ্ধজাহাজগুলো।
এক নজরে সংঘাতের হালহকিকত:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| আক্রমণকারী | মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (US CENTCOM) |
| আক্রান্ত দেশ | ইরান (তেহরান, কেশম দ্বীপ, বুশেহর) |
| হামলার মূল কারণ | জর্ডনে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলা ও উস্কানি |
| মূল বার্তা | প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘কঠোর প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন |
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফের এক পূর্ণাঙ্গ ও সর্বগ্রাসী যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে এল। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, ইরানের ওপর এই সরাসরি আঘাতের পর তেহরান ও তাদের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি এর কী ধরনের চরম পাল্টা জবাব দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।






