৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে বদলে গেল পৃথিবীর মানচিত্র! ৬০ সেমি পর্যন্ত সরে গেল মাটি, চাঞ্চল্যকর ছবি প্রকাশ করল ইসরো-নাসার ‘নিসার’

source : সংবাদ প্রতিদিন
প্রকৃতির তাণ্ডবে মুহূর্তে ছাই হয়ে যেতে পারে আস্ত শহর, কিন্তু তা বলে বদলে যেতে পারে গোটা ভূখণ্ডের ভৌগোলিক মানচিত্র? ঠিক এমন এক ‘আশ্চর্যজনক’ সত্য সামনে আনল ভারত ও আমেরিকার যৌথ মহাকাশ গবেষণা মিশন। গত জুন মাসে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ঘটে যাওয়া পরপর দুটি প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গঠনে এসেছে বিশাল পরিবর্তন, যা দেখে তাজ্জব বিশ্বের ভূতত্ত্ববিদরা।
এক মিনিটের মধ্যে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পের তাণ্ডব
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের (USGS) রিপোর্ট অনুযায়ী, গত জুন মাসে ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলবর্তী মোরন (Morón) শহরের পশ্চিমে পরপর দুটি ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- প্রথম কম্পন: রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭.২ (উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিমি গভীরে)।
- দ্বিতীয় কম্পন: প্রথমটির ঠিক ৪০ সেকেন্ডের মাথায় আঘাত হানে ৭.৫ মাত্রার আরও এক বিধ্বংসী কম্পন (উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে)।
এক মিনিটেরও কম সময়ে হওয়া এই জোড়া কম্পনে কার্যত তছনছ হয়ে যায় রাজধানী কারাকাস সহ একাধিক শহর। প্রাণ হারান হাজার হাজার মানুষ।
[ভেনেজুয়েলা ভূকম্পনের মূল তথ্য]
* সময়কাল: জুন ২০২৬।
* কম্পনের মাত্রা: ৭.২ এবং ৭.৫ (রিখটার স্কেল)।
* উৎসস্থল: মোরন শহরের পশ্চিমে (১০-১৩ কিমি গভীরে)।
* কারণ: স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট (Strike-Slip Fault)।
* সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: রাজধানী কারাকাস বিমানবন্দর (৬০ সেমি ভূমি বিচ্যুতি)।
ইসরো-নাসার ‘নিসার’ উপগ্রহে ধরা পড়ল চরম সত্য
বিপর্যয়ের পরপরই ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) এবং মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (NASA)-র যৌথ কৃত্রিম উপগ্রহ নিসার (NISAR) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ‘ইনটারফেরোমেট্রিক সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার’ (InSAR) প্রযুক্তির সাহায্যে ছবি তোলা শুরু করে।
ভূমিকম্পের আগে ও পরে তোলা রাডার চিত্রগুলো পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা স্তম্ভিত হয়ে যান। দেখা যায়, ভূগর্ভস্থ বিপুল চাপের ফলে সেখানকার মাটি নিজের আসল স্থান ছেড়ে অনেকটা সরে গিয়েছে। মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে এই পার্থক্য খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়েছে।
‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট’ এবং ৬০ সেন্টিমিটার ভূমিস্যুতি
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের মূল কারণ ছিল ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট’ (Strike-Slip Fault)। এই প্রক্রিয়ায় দুটি টেকটোনিক প্লেট আনুভূমিকভাবে একে অপরের বিপরীত দিকে ঘষা খেয়ে সরে যায়।
ভেনেজুয়েলার এই ঘটনায় ক্যারিবিয়ান টেকটোনিক প্লেট (Caribbean Plate) এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেট (South American Plate)-এর মধ্যে প্রবল ঘর্ষণ তৈরি হয়েছিল। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, কারাকাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তার আশপাশের এলাকায় মাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানচ্যুত হয়ে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত সরে গিয়েছে।
এক নজরে নিসার (NISAR) স্যাটেলাইটের রিপোর্ট:
| গবেষণার ক্ষেত্র | নিসার (NISAR) স্যাটেলাইটের বিশ্লেষণ |
| প্রযুক্তি ব্যবহৃত | ইনটারফেরোমেট্রিক সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (InSAR)। |
| প্রভাবিত টেকটোনিক প্লেট | ক্যারিবিয়ান প্লেট ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট। |
| সর্বোচ্চ ভূমি বিচ্যুতি | প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার (কারাকাস বিমানবন্দর এলাকা)। |
| বিজ্ঞানীদের মন্তব্য | আধুনিক ইতিহাসে এত দ্রুত ভূপৃষ্ঠের স্থান পরিবর্তন বিরল। |
ইসরো ও নাসার যৌথ মিশন ‘নিসার’-এর এই সাফল্য এটিই প্রমাণ করে যে, মহাকাশ প্রযুক্তি কতটা নিখুঁতভাবে পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পরিমাপ করতে সক্ষম। এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো আগামী দিনে ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার পুনর্বাসন ও পরিকাঠামো নির্মাণে গবেষকদের বড় পথ দেখাবে।






