পেটের টানে কলকাতা এসে নিউমার্কেটের হোটেলের আগুনে বলি ঝাড়খণ্ডের তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান

পেটের তাগিদে ঝাড়খণ্ড থেকে কলকাতায় কাজে এসেছিলেন সন্দীপ পাসওয়ান। ভাবতেই পারেননি বছর পেরনোর আগেই বাড়িতে পৌঁছবে দেহ। কিন্তু হল ঠিক তেমনটাই। নিউমার্কেটের হোটেল শিখা ইন-এর ভয়াবহ আগুন প্রাণ কাড়ল ১৯ বছরের এই যুবকের। হাসপাতাল চত্বরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন যুবকের কাকা ও দাদা। কোলে-পিঠে করে বড় করা সন্তানের দেহ নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে, ভেবেই ডুকরে উঠছেন সন্দীপের কাকা।
কাজের খোঁজে এসে মর্মান্তিক পরিণতি
ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ান। বাড়িতে রয়েছে মা, দাদা, বোন-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। চার বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতেই বসে থাকা তরুণ কাজের খোঁজে ছিলেন। মাস তিনেক আগে নাগেরবাজারের বাসিন্দা কাকা সীতারাম পাসওয়ান কলকাতার একটি হোটেলে কাজের ব্যবস্থা করে দেন এবং সন্দীপকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে নিউমার্কেটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এই কাজ করতেন তিনি।
অন্যান্যদিনের মতোই মঙ্গলবার রাতেও হোটেলে ছিলেন সন্দীপ। কিন্তু কে জানত কী ভয়ংকর বিপদ অপেক্ষা করছে! রাত পৌনে দুটো নাগাদ বিল্ডিংয়ের তিনতলায় আগুন লাগে এবং মুহূর্তে তা পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। বেরনোর চেষ্টা করলেও সংকীর্ণ সিঁড়ি ও ধোঁয়ার দাপটের কারণে অন্যান্য আবাসিকদের মতো সন্দীপও আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দমবন্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
কাকার কান্নায় ভারী হাসপাতাল চত্বর
বুধবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কাকা সীতারাম। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত তিনটে নাগাদ খবর পেয়েই তিনি বাড়ি থেকে রওনা দেন এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এসে সন্দীপের দেহ শনাক্ত করেন।
“ওঁর বাবা মারা গিয়েছে বছর চারেক আগে। ছেলেটার কাজের দরকার ছিল। তাই নিয়ে এসেছিলাম। ঝাড়ু দেওয়া, সাফাইয়ের কাজ করত। কিন্তু এমন খবর পাব ভাবিনি।” — সীতারাম পাসওয়ান, মৃতের কাকা
সীতারাম আরও জানান, সন্দীপ হোটেলের ফ্রিজের পাশেই ঘুমোতেন। তাঁর দাবি, ফ্রিজের কম্প্রেসার ফেটে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুনে যুবকের মুখ ও বুক কিছুটা ঝলসেও গিয়েছে। পেটের টানে শহরে আসা একটি তরতাজা প্রাণের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।






