তারাপীঠের পর কলকাতার হোটেলেও ভয়াবহ আগুন, ৯ মৃত্যু: জানলা দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন বহু আবাসিক

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দু’দিনের মধ্যেই সেই আতঙ্কের পুনরাবৃত্তি কলকাতায়। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ধর্মতলার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডেও মৃতের সংখ্যা ছিল ৯। কলকাতার হোটেল থেকে মোট ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুন থেকে বেঁচে ফেরা আবাসিকদের মুখে উঠে আসছে আতঙ্কের মুহূর্তের বিবরণ। কেউ জানলা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন, আবার কারও দাবি, হোটেলের উপরিতল থেকে নীচে নামার একমাত্র লোহার সিঁড়ি আগুনের তাপে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে পা রাখলেই ফোসকা পড়ে যাচ্ছিল।
জানলা দিয়ে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচলেন পৃথিবী
বেঁচে ফেরা আবাসিকদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পৃথিবী। মঙ্গলবার সকালে কয়েকজনের সঙ্গে কলকাতা ঘুরতে এসে ‘শিখা ইন’-এ চেক-ইন করেছিলেন তিনি। হোটেলের পিছনের দিকে একটি ঘর পেয়েছিলেন তাঁরা। পৃথিবীর মতে, সম্ভবত সেই ঘরেই থাকার কারণেই প্রাণে বেঁচেছেন তাঁরা।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে পৃথিবী বলেন, “আমাদের রুমে যে জানলা ছিল, সেখান দিয়ে বেরোই। ততক্ষণে সামনের দিকে সাংঘাতিক অবস্থা। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে সব।”
জানলা দিয়ে বেরিয়ে একটি টিনের শেড দেখতে পান তাঁরা। ওই শেডে বৃষ্টির জল জমে ছিল এবং নোংরাও ছিল বলে জানান পৃথিবী। নামতে গিয়ে তাঁর পা পিছলে যায় এবং আঘাত পান। তবে প্রাণে বেঁচে যাওয়াকেই সবচেয়ে বড় বিষয় বলে মনে করছেন তিনি।
উত্তপ্ত লোহার সিঁড়ি, নামার উপায় ছিল না
হোটেলের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পৃথিবী। তাঁর দাবি, পাঁচতলা ওই ভবনে ছিল মাত্র একটি সিঁড়ি এবং একটি লিফ্ট। প্রতিটি তলায় আবার ছোট ছোট ৪-৫টি হোটেল চলত।
আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ নীচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু লোহার সিঁড়ি আগুনের তাপে অত্যন্ত গরম হয়ে যাওয়ায় সেই পথ ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
পৃথিবীর কথায়, “চেষ্টা করেছিলাম সিঁড়ি দিয়ে নামার। পা দিতেই পুড়ে যাচ্ছে মনে হল। তার পরেই ঘরের জানলা দিয়ে নামতে শুরু করি।”
আগুনের সময় হোটেলের ভিতরে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা যাঁরা সেখানে আটকে পড়েছিলেন তাঁরাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তদন্তে SIT, গঠন হয়েছে কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হোটেল মালিকের খোঁজ মিলছে না। তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিউ মার্কেট থানার পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল সিপি (অপরাধ-দমন) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তের জন্য একটি SIT গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দমকলের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন, পাঁচতলা ওই ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ছিল এবং আগুন লাগার পর আবাসিকদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আদৌ ছিল কি না। পাশাপাশি হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।






